প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 01 February 2026, 02:20 ইং
বিশ্বকাপের আগে আইসিসি বনাম ডব্লিউসিএ: খেলোয়াড়দের অধিকার নিয়ে সংঘাত

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে খেলোয়াড়দের বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত অধিকার (এনআইএল) নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও আদর্শিক দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং খেলোয়াড়দের বৈশ্বিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। ডব্লিউসিএ-র অভিযোগ, আইসিসি চতুরতার সাথে খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকবচ সরিয়ে নিয়ে তাদের ‘শোষণ’ করার চেষ্টা করছে।
ঘটনার মূলে রয়েছে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য আইসিসি কর্তৃক পাঠানো নতুন শর্তাবলী। ডব্লিউসিএ দাবি করেছে, ২০২৪ সালে উভয় পক্ষের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত মূল চুক্তির পরিবর্তে আইসিসি এখন একটি নতুন ও ‘অননুমোদিত’ সংস্করণ চাপিয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, এই সংস্করণটি খেলোয়াড়দের জন্য চরম অবমাননাকর ও শোষণমূলক।
- আইসিসির অবস্থান: আইসিসি ডব্লিউসিএ-র অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ২০২৪ সালের চুক্তিটি কেবল ৮টি সদস্য বোর্ডের (অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড) জন্য প্রযোজ্য ছিল। বাকি ১২টি দেশ এই চুক্তিতে বাধ্য নয়।
- ডব্লিউসিএ-র পাল্টা যুক্তি: সংগঠনটির মতে, ২০২৪ সালের চুক্তিতে স্পষ্ট ছিল যে এটি সকল দেশের খেলোয়াড় সংগঠনের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। আইসিসি জেনেশুনে স্বল্প বেতনের ও সুবিধাবঞ্চিত খেলোয়াড়দের সুরক্ষা কেড়ে নিতে চাইছে।
ডব্লিউসিএ-র সিইও টম মোফাট আটটি ক্ষেত্রে চুক্তির বড় পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিতর্কিত বিষয়গুলো হলো:
- ছবির মালিকানা (NIL): আইসিসির নতুন শর্ত অনুযায়ী, যেকোনো ৩ জন খেলোয়াড়কে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে এবং বোর্ডই খেলোয়াড়ের হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। অথচ আগের চুক্তিতে দর কষাকষির ক্ষমতা ছিল ডব্লিউসিএ-র হাতে।
- ব্যক্তিগত তথ্য (Data): আইসিসি নিজেদের খেলোয়াড়দের তথ্যের ‘মালিক’ দাবি করে তা বাণিজ্যিক ব্যবহারের অধিকার চাইছে। ডব্লিউসিএ বলছে, তথ্যের মালিক খেলোয়াড় এবং ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সম্মতি প্রয়োজন।
- স্বাক্ষর ছাড়াই সম্মতি: আইসিসি বলেছে, টুর্নামেন্টে অংশ নিলেই ধরে নেওয়া হবে খেলোয়াড় সব শর্ত মেনে নিয়েছেন। ডব্লিউসিএ একে আইনত ভিত্তিহীন ও জবরদস্তি বলে মনে করছে।
টম মোফাট উদ্বেগ প্রকাশ করে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে বলেন, “আইসিসি সবচেয়ে দুর্বল ও স্বল্প বেতনের খেলোয়াড় গোষ্ঠীগুলোকে টার্গেট করে তাদের সুরক্ষা সরিয়ে নিয়েছে। আমরা বিশ্বকাপ ব্যাহত করতে চাই না, তবে খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার।”
ইতালি, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো দেশগুলো এখনো চূড়ান্ত শর্তাবলী পায়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের ওপরও এই অননুমোদিত সংস্করণ চাপিয়ে দেওয়া হবে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর বোর্ড ডব্লিউসিএ-কে স্বীকৃতি না দেওয়ায় তাদের খেলোয়াড়রা এই সুরক্ষা বলয়ের বাইরে রয়েছে।
আইসিসি এখন পর্যন্ত ডব্লিউসিএ-র সাম্প্রতিক মেইলের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এই বিরোধ নিরসন না হলে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ