প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 07 February 2026, 11:54 ইং
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধে সংবাদ সম্মেলন

কেশবপুর প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধে আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তি সম্মেলন করেছেন। শনিবার দুপুরে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিনি স্বজনদের নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, উপজেলার চাঁদড়া গ্রামের মৃত জসিম গাজী আমার নানা হয়। তার মৃত্যুর পর ওয়ারেশ হিসেবে চাঁদড়া মৌজার আরএস খতিয়ান নং-৫৮৫ এর ৬টি দাগে ১৩৬ শতক জমির মধ্যে আমার মা মনোয়ারা বেগম ও মামা জোহর আলী ১০২ শতক জমি প্রাপ্য হয়। ১৯৮৮ সালের মাঠ জরিপে আমার খালু মৃত মহাতাব সরদার প্রতারণা করে আমার মা ও মামাকে ফাঁকি দিয়ে সমুদয় জমি নিজ নামে রেকর্ড করে নেয়। ২০১০ সালে বিষয়টি জানতে পেরে যশোর বিজ্ঞ আমলি আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করি। ২০১৭ সালে আমার খালুর অংশ বাদ রেখে এ মামলার রায় আমার মা ও মামার পক্ষে হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিক্রিতে এ রায় বহাল থাকে। এ রায়ের ভিত্তিতে কেশবপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে আমার মা ও মামুর ওয়ারেশদের নামে নামপত্তন করা হয়। যার নামজারি মামলা নং- ১৭৪৭।
এ খবর জানতে পেরে প্রতিপক্ষরা আরএস-১৩১ ও ১২৪ দাগের জমির ওপর থেকে জোর করে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ফলদ ও বনজ বৃক্ষ কেটে নেয়। পরে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা করে। যা পিবিআই এর তদন্ত প্রতিবেদনে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আদালতের রায় আমি জমির দখল নিতে গেলে প্রতিপক্ষরা বাধা দিয়ে আমার নামে একের পর এক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে আমি ২০২৪ সালে ওই জমির ওপর আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা করি। মামলার রায় আমার পক্ষে যায়। এছাড়া, গত রছর আমি এক বিঘা জমিতে ইরিধান ও ২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করি। তারা আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় সেসময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ১৫ কাঠা জমির ধান ও ১০ কাঠা জমির সরিষা তুলে নিয়ে যায়। যে কারণে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান প্রতিপক্ষকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এসময় বাধা দিতে গেলে আমাকেসহ নুরজাহান বেগম, জেসমিন বেগমকে ব্যাপকভাবে মারপিট করে গুরুতর জখম করে। আমরা আহত অবস্থায় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই। এঘটনায় জেসমিন বেগম বাদি হয়ে প্রতিপক্ষ মহাতাব সরদারের দু‘ছেলে নুরুল ইসলাম, মুনতাজ সরদার, মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানকে আসামী করে কেশবপুর থানায় একটি মামলা করি। পুলিশ আসামী মিজানুর রহমানকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।
এতেও আমাকে কিছু করতে ব্যর্থ হয়ে উক্ত বিবাদীগণ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বিবাদী নূরুল ইসলাম আমার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর মামলা করে। আদালত মামলাটি আমলে নিলেও এর রায়ও আমার পক্ষে যায়। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে ব্যর্থ হয়ে বর্তমান প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগসহ লুটপাট ও ভাঙচুরের মিথ্যা অভিযোগ এনে গত বুধবার যশোর প্রেসক্লাবে মিথ্যা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। আমি এ মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষের মিজানুর রহমান বলেন, আবুল কাশেম বিএনপি নেতা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। না দিলে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। যেকারণে প্রতিকার চেয়ে তার বিরুদ্ধে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ