প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 13 February 2026, 12:38 ইং
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন বাণিজ্য সমীকরণে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক, স্বপ্নভূমি :
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের শুল্ক সুবিধা ও নতুন বাজার ধরার পথ প্রশস্ত হয়েছে। সোমবার দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তির ফলে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্য সে দেশের বাজারে ‘শূন্য সম্পূরক শুল্কে’ প্রবেশের অধিকার পাবে।
মঙ্গলবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই চুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানান, ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল মার্কিন অর্থনীতিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে এই চুক্তিটি একটি মাইলফলক।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় তুলার ৯৮ শতাংশই আমদানি করে। এই আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলাকে অগ্রাধিকার দিলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানির প্রায় ৮৬ শতাংশের ওপর কোনো সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে না। এতে সার্বিক রপ্তানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ৯ মাসের দরকষাকষির পর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে আগের ১৫ শতাংশ নিয়মিত শুল্কসহ মোট শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ শতাংশে দাঁড়াবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করেন। তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় ‘পটেনশিয়াল ট্যারিফ অ্যাডজাস্টমেন্ট ফর পার্টনার কান্ট্রিস’-এর অধীনে প্রায় ২,৫০০টি পণ্যে ডিউটি ফ্রি (শুল্কমুক্ত) সুবিধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে:
- ফার্মাসিউটিক্যালস: সব ধরনের কাঁচামাল ও ওষুধ।
- অন্যান্য: প্লাস্টিক পণ্য, উড়োজাহাজের যন্ত্রপাতি ও প্লাইউড বোর্ডসহ আরও অনেক পণ্য।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, "বিগত সরকার আমাদের বুঝিয়েছিল আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রতি বছর ১৫ বিলিয়ন ডলারের গম, ভুট্টা ও তেলবীজ আমদানি করতে হয়।" বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষি পণ্য, জ্বালানি ও মেটাল স্ক্র্যাপ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে চুক্তিতে বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, পরবর্তী কোনো সরকার যদি মনে করে এই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী, তবে যথাযথ নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল থেকে শতাধিক দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করেন। বাংলাদেশের ওপরও ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের খড়গ নেমে এসেছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের টানা আলোচনার ফলে সেই সংকট কাটিয়ে নতুন এই বাণিজ্যিক দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ