প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 15 February 2026, 04:02 ইং
নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত কী এবং কেন হয়?

স্টাফ রিপোর্টার :
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রায়ই শোনা যায়—অমুক প্রার্থীর 'জামানত বাজেয়াপ্ত' হয়েছে। রাজনৈতিক লড়াইয়ে এটি কেবল একটি আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং জনসমর্থনহীনতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু আইনত এই জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও নিয়ম রয়েছে।
জামানত কী?
নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য একজন প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। একে বলা হয় 'নিরাপত্তা আমানত' বা সিকিউরিটি ডিপোজিট। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই জামানতের পরিমাণ বর্তমানে ২৫,০০০ টাকা।
কেন বাজেয়াপ্ত হয়? (প্রধান শর্ত)
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে তার জামানত রক্ষা করতে হলে ওই আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের একটি নির্দিষ্ট অংশ পেতে হয়।
- ভোটের হার: কোনো নির্বাচনী এলাকায় যতগুলো 'বৈধ ভোট' (বাতিল ভোট বাদে) পড়েছে, তার আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫%) ভোট পেতে ব্যর্থ হলে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
- উদাহরণ: ধরুন, কোনো আসনে মোট ১ লাখ বৈধ ভোট পড়েছে। জামানত রক্ষা করতে হলে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ১২,৫০০টি ভোট পেতে হবে। এর চেয়ে একটি ভোট কম পেলেও ওই প্রার্থীর ২৫ হাজার টাকা আর ফেরত দেওয়া হয় না; তা সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়।
জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার কারণসমূহ:
১. জনসমর্থনের অভাব: প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা দলের ভিত্তি দুর্বল হলে তিনি প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হন।
২. হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রভাব: কোনো আসনে শক্তিশালী বা হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হলে ছোট দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট কমে যায়, ফলে তাদের জামানত হারানোর ঝুঁকি বাড়ে।
৩. ভোট কারচুপি বা বয়কট: অস্বাভাবিক কম ভোট পড়লে বা বিশেষ কোনো প্রার্থীর দিকে ভোট একতরফাভাবে চলে গেলে অন্য সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
কখন টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
- যদি কোনো প্রার্থী ১২.৫%-এর বেশি ভোট পান, তবে ফল প্রকাশের পর তিনি এই টাকা ফেরতের আবেদন করতে পারেন।
- মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হলে বা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নাম সরিয়ে নিলে জামানতের টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
কেন এই নিয়ম?
নির্বাচন কমিশনের মতে, নির্বাচনে কেবল সিরিয়াস বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তা নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম রাখা হয়েছে। যেনতেন যে কেউ দাঁড়িয়ে পড়ে যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে জটিল করতে না পারে, তার একটি রক্ষাকবচ হলো এই জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ