প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 16 February 2026, 22:51 ইং
বিচ্যুতি থাকলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য’: ভয়েস নেটওয়ার্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শতভাগ নিখুঁত না হলেও এটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য (ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল) নির্বাচন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনের জোট
‘ভয়েস নেটওয়ার্ক’। তবে কিছু কেন্দ্রে জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণের মতো বিচ্যুতিও তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসিমউদ্দীন এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক জসিমউদ্দীন বলেন, "কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হতে পারে না। তবে বিগত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবার জনগণ সুন্দরভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণের আলোকে ভবিষ্যতে আরও সুন্দর নির্বাচনের জন্য কমিশনকে সুপারিশ জানাব।" সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জোটের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এনায়েত হোসেন জাকারিয়া।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১০৬৯ জন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ১১০টি আসনের ৩৫৪১টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছেন। এর মধ্যে ১০০৮টি কেন্দ্রে ভোট গণনা পর্যন্ত তারা উপস্থিত ছিলেন।
পর্যবেক্ষণে উঠে আসা উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি:
- নিরাপত্তা ও পক্ষপাত: ১১ শতাংশ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি ছিল না। ১৫.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
- এজেন্টদের বাধা: ঢাকা-৮ আসনসহ বিভিন্ন এলাকায় একপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা-১০ আসনে পোলিং এজেন্টকে উঠিয়ে নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। একই চিত্র দেখা গেছে ভোলা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জসহ বেশ কিছু আসনে।
- জাল ভোট ও জালিয়াতি: ৮ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারের পরিচয় যাচাই না করেই ভোট নেওয়া হয়েছে। ৪ শতাংশ কেন্দ্রে সরাসরি জাল ভোট দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে এবং ৫.৮ শতাংশ ভোটার ভয়ভীতির কারণে ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন। শেরপুর-১ আসনে শতাধিক সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধারের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
- অবকাঠামোগত সমস্যা: ১১ শতাংশ কেন্দ্র ভবনের উপরের তলায় হওয়ায় প্রবীণ ও অসুস্থদের যাতায়াতে সমস্যা হয়েছে। ২০ শতাংশ কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
ভয়েস নেটওয়ার্ক জানায়, ৭ শতাংশ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আইডি কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া ১৫.৫ শতাংশ কেন্দ্রে ভোট পরবর্তী সহিংসতা নির্বাচনের সাফল্যকে ম্লান করেছে বলে মন্তব্য করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভয়েস নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব একরামুল হক সায়েম, রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর বুরহান উদ্দিন এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সিইও ইজাজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ