প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 03 March 2026, 13:28 ইং
জুলাই সনদ ও গণভোট: উচ্চ আদালতের রুলে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলো যদি আইনি জটিলতায় হোঁচট খায়, তবে বর্তমান সরকার ও আগামী নির্বাচনের অস্তিত্বই বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) উচ্চ আদালত থেকে এ সংক্রান্ত চারটি বিষয়ে রুল জারির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ও গত সপ্তাহে বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত দুই আইনজীবী পৃথক রিট আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত মঙ্গলবার চারটি বিষয়ে রুল জারি করেছেন:
- ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অসাংবিধানিক হবে না?
- সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার চিঠির বৈধতা।
- গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারায় থাকা চারটি প্রশ্নের বৈধতা।
- রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবের বৈধতা।
শিশির মনির অভিযোগ করেন, সরকার রাজনৈতিক অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে আদালতের বিষয়বস্তু বানিয়ে এক ধরনের ‘দ্বিচারিতা’ করছে। তিনি বলেন, “সরকার একদিকে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার প্রস্তাব পাঠাচ্ছে—যা সংস্কার প্রস্তাবের অংশ; অন্যদিকে পরোক্ষভাবে রিট করিয়ে সেটিকে চ্যালেঞ্জ করছে। সংসদকে এড়িয়ে আদালতের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার এই কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “৫ই আগস্টের পর সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটিকে আদালতের অধীনে আনা মোটেও শুভলক্ষণ নয়। যারা এই ‘প্যান্ডোরার বক্স’ ওপেন করাচ্ছেন, এর পরিণতির দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।”
জামায়াতের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি জুলাই সনদ না থাকে, ৩০টি কনসেনসাস (ঐকমত্য) না থাকে এবং গণভোটের প্রশ্নও অবৈধ হয়, তবে শেষ পর্যন্ত কী থাকবে? নির্বাচন থাকবে? সরকার থাকবে? নাকি নিজের গদি থাকবে? সবকিছুই তখন বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।”
রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়কে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মারার চেষ্টা না করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ