নিজস্ব প্রতিনিধি:
নববর্ষের নব স্বপ্নে নব উদ্যমে জাগো"—এই উদাত্ত আহ্বানে যশোরে উৎসবমুখর ও ব্যতিক্রমী পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। আজ মঙ্গলবার সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে যশোর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে শুরু হয় এই বর্ণাঢ্য উৎসব। প্রথাগত উদযাপনের বাইরে ইসলামি মূল্যবোধ ও দেশীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে "সুস্থ ধারার সংস্কৃতি" বিকাশের এক নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে এবারের আয়োজনে।
ভোর থেকেই যশোরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেন। অনুষ্ঠানে যশোরের প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ইসলামি ও সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে। শিল্পীদের কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি, লোকগীতি, দেশাত্মবোধক গান এবং জীবনমুখী অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নববর্ষ উদযাপনের প্রচলিত ধারণা নিয়ে ঠিকানা কালচারাল একাডেমির চেয়ারম্যান কবির বিন সামাদ বলেন, "পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু অনেকের ধারণা এটি কেবল র্যালি, মুখোশ বা নির্দিষ্ট কিছু প্রতীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমরা এই ধারণা ভেঙে ইসলামি ও সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরছি।"
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, ইসলামি মূল্যবোধ বজায় রেখেও আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে একটি রুচিশীল সংস্কৃতি চর্চা করা সম্ভব। অপসংস্কৃতি পরিহার করে কল্যাণকর ও রুচিশীল উৎসব পালন করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য।
তাঁরার মেলা শিল্পী গোষ্ঠী যশোরের পরিচালক রোকনুজ্জামান জানান, জেলা পরিষদের র্যালিতে বর্ণিল সাজে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি—কৃষক, জেলে ও মাঝি-মাল্লাদের জীবন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিশুদের মাধ্যমে এই ঐতিহ্য তুলে ধরার মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা।
তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন মূলত বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার একটি প্রয়াস। বাংলা নববর্ষ যেন সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করতে পারে, আমরা সেই বার্তাই দিতে চাই।
যশোর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এই আয়োজনে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। নতুন বছর দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এবং আগামী প্রজন্ম সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের।