
যশোরের চৌগাছায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হবে আগামী ২০ এপ্রিল। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন ধার্য করেন।
শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অব্যাহতি দাবি করেন। তাদের যুক্তি ছিল, এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বা ‘সিস্টেমেটিক অ্যাটাক’ (সুশৃঙ্খল আক্রমণ) হিসেবে গণ্য হয় না।
অন্যদিকে, প্রসিকিউশনের প্রধান মো. আমিনুল ইসলাম আদালতে যুক্তি দেন যে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের ওপর যে ধারাবাহিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, এটি তারই অংশ। তিনি ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিশানা করে তুলে নিয়ে যাওয়ার এই পদ্ধতিটি একটি ‘সিস্টেমেটিক অ্যাটাক’ ও ‘ওয়াইড স্প্রেড’ বা বিস্তৃত আক্রমণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর তাদের পায়ে গুলি করা হয় এবং ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এতে পায়ে পচন ধরলে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকরা তাদের দুজনেরই পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।
সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক।
তবে এই মামলার আরও পাঁচ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান ও চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমানসহ তিন এসআই।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে এখন ২০ এপ্রিল জানা যাবে আদালত এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করবেন কি না।