প্রিন্ট এর তারিখঃ May 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 19 May 2026, 16:12 ইং
বিজ্ঞানে গ্রাজুয়েটদের অবৈজ্ঞানিক পেশায় ঝোঁকার প্রবণতা বাড়ছে

যবিপ্রবি প্রতিনিধি:
বিজ্ঞানে শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটরা ডিগ্রি অর্জনের পর বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার ছেড়ে অ-বিজ্ঞান সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বিপুল পরিমাণ ডিগ্রিধারী তৈরি করলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে যোগ্য জনবল ধরে রাখতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে দেশের শ্রমবাজার এবং জাতীয় অর্থনীতি ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সেন্ট্রাল গ্যালারিতে আয়োজিত এক একাডেমিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষার তত্ত্ব ও প্রয়োগের ব্যবধান দূরীকরণ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে কেআরটিসি দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর।
সেমিনারে মূল বক্তা এবং গবেষণা সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব সিগেন থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং কেআরটিসি'র প্রতিষ্ঠাতা মোঃ জাকারিয়া হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষার বর্তমান সংকট, সীমাবদ্ধতা এবং কাঠামোগত নীতিগত সমস্যাগুলো বিশদভাবে তুলে ধরেন।
সেমিনারে বক্তারা দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির পেছনে প্রধান তিনটি কারণ উল্লেখ করেন:
- দুর্বল ব্যবহারিক দক্ষতা: বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নামমাত্র হাতে-কলমে কাজ বা ল্যাবরেটরি সুবিধা নিয়ে ডিগ্রি শেষ করছে। ফলে তাদের বাস্তবভিত্তিক ও ব্যবহারিক দক্ষতা অত্যন্ত দুর্বল থেকে যাচ্ছে।
- বাস্তবতাহীন পাঠ্যক্রম: বর্তমান পাঠ্যক্রম মূলত তাত্ত্বিক এবং পাঠ্যবই-কেন্দ্রিক, যার সাথে বাস্তব কর্মজগতের কোনো মিল নেই।
- গবেষণার সুযোগের অভাব: স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টরশিপ বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ একেবারেই সীমিত।
বক্তারা আরও জানান, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের প্রতি বছর প্রায় ৮৭ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু গবেষণাগার ও সঠিক নীতিমালার অভাবে এই বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত বৈজ্ঞানিক আউটপুট বা দেশীয় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আসছে না।
এই তত্ত্ব ও প্রয়োগের ব্যবধান দূর করতে সেমিনারে বক্তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে— পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন, ল্যাবরেটরি সুবিধা বৃদ্ধি, স্নাতক পর্যায় থেকে গবেষণায় তহবিল বরাদ্দ এবং বিজ্ঞান গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি। একই সাথে এই সংকট উত্তরণে সরকারের নীতিগত পরিবর্তন ও বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তারা।
উক্ত সেমিনারে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার সরকার এবং ড. শাহ মোঃ শাহান শাহরিয়ার প্রমুখ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ