প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 08 June 2026, 08:06 ইং
যশোরে আরবপুরের জমি নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যশোর শহরের আরবপুর এলাকার ২৩.৮৬ শতক বিক্রিত জমি নিয়ে অপপ্রচার ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বেনাপোলের দুই ব্যবসায়ী। আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গত ৬ জুন প্রতিপক্ষ সায়াদ হোসেনের করা এক সংবাদ সম্মেলনের জবাবে পাল্টা এই সংবাদ সম্মেলন করেন ক্রেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রেতাপক্ষের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিয়ামুজ্জামান। এতে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট জমির ক্রেতা ও ব্যবসায়ীবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে সিয়ামুজ্জামান জানান, আরবপুর এলাকার উক্ত জমির মূল মালিক মরহুম আব্দুস সালাম সরদার (হবি সরদার) ২০২৪ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁর চিকিৎসার খরচ মেটাতে তিনি নিজের একমাত্র কন্যা ও জামাতার উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বর্তমান ক্রেতাপক্ষের কাছে ২৩.৮৬ শতক জমি বিক্রি করেন। জমি বিক্রির টাকা উত্তোলনের সময় মরহুমের স্ত্রী ও এক ছেলেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জমি রেজিস্ট্রি করার কিছুদিন পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ক্রেতারা দাবি করেন, জমিটি কেনার পর তাঁরা নিয়ম মেনে নামজারি (মিউটেশন) করিয়েছেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ভোগদখল করছিলেন। এমনকি জমির একটি অংশ একটি লেদ কারখানার জন্য ভাড়াও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে সায়াদ হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং বাউন্ডারি ও কারখানার ক্ষতিসাধন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে ক্রয়কৃত জমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং অপপ্রচার রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (৬ জুন) সায়াদ হোসেনের পক্ষে করা সংবাদ সম্মেলনে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছিল। সায়াদ হোসেনের অভিযোগ ছিল, তাঁর পিতার মৃত্যুর পর আসাদুজ্জামান, বাবলু তালুকদার, আনিসুর রহমান, ইয়াসিন ও এ কে এম আতিকুজ্জামান ছানিসহ একটি চক্র বিভিন্ন সময়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় তাঁরা আদালতে দেওয়ানি মামলা করলে আদালত সংশ্লিষ্ট জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা পরবর্তীতে আপিল আদালতেও বহাল থাকে।
সায়াদ হোসেনের দাবি, প্রতিপক্ষ একটি সন্দেহজনক দলিল দেখিয়ে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছে। ওই দলিল বাতিলের দাবিতে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে পৃথক দুটি দেওয়ানি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া বাবলু তালুকদার নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ওই জমিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকার পর ভাড়া প্রদান বন্ধ করে উল্টো সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছেন বলেও সায়াদ হোসেন অভিযোগ করেছিলেন।
আরবপুর এলাকার এই মূল্যবান জমিটি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন এবং আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই বিরোধের দ্রুত ও সুষ্ঠু আইনি সমাধান প্রত্যাশা করছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ