প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 18 June 2026, 11:10 ইং
প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসার ‘ট্যালেন্ট ফেস্ট ও মিনি ট্যুর’ অনুষ্ঠিত: শিশুদের মেধা বিকাশে অনন্য উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার :
আধুনিক জ্ঞান ও ইসলামি আদর্শে উন্নত প্রজন্ম গঠনের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘প্রগতি ট্যালেন্ট ফেস্ট এন্ড মিনি ট্যুর-২০২৬’। আজ বৃহস্পতিবার যশোরের জেস গার্ডেন পার্কে অনুষ্ঠান আয়োজন করে নিউমার্কেট-যশোরে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসা’।
অনুষ্ঠানে প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আলমগীর হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল ‘প্রগতি ট্যালেন্ট ফেস্ট’। যেখানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ৫টি ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় বিষয়ে তাদের সুপ্ত প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল—
- পিকচার, লেটার ও ডিজিট আইকিউ ট্যালেন্ট টেস্ট।
- আরবি, বাংলা ও ইংরেজি—তিনটি মাধ্যমে "সুন্দর হাতের লেখা" প্রতিযোগিতা।
"বাবা-মা কেন সেরা" বিষয়ে ৩ মিনিটের আবেগঘন বক্তৃতা।"আমার স্বপ্ন" শিরোনামে "মায়ের কাছে চিঠি লেখা" প্রতিযোগিতা।"প্রগতি মাদরাসায় সেরা" বিষয়ে ৩ মিনিটের আকর্ষণীয় বক্তৃতা প্রতিযোগিতা।
অনুষ্ঠানে চমৎকার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৩০ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি নাজমুল হোসেন শিশুদের অনবদ্য পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন,
"আমাদের সোনামণিরা যেভাবে পারফর্ম করেছে, আমি নিজেই অভিভূত। প্রত্যেকটা সন্তান যদি এভাবে তার মেধার বিকাশের সুযোগ পায়, তবে তারা একদিন আদর্শ সন্তান হিসেবে গড়ে উঠবে। আর এই বিকাশের জন্য প্রতিষ্ঠান ও পরিবার—উভয় পক্ষ থেকেই সমান সাপোর্ট থাকতে হবে।"
তিনি সন্তানদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার আহ্বান জানিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ছেলেমেয়েরা দুষ্টামি করবে, বাহানা করবে, কিন্তু বাবা-মা হিসেবে আমাদের পজিটিভ অ্যাপ্রোচ করতে হবে, অন্যথায় তাদের মানসিকতা নষ্ট হতে পারে। প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মেধার বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবসম্মতভাবে গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।" তিনি এই সুন্দর আয়োজনের জন্য মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও জাজা খায়ের কামনা করেন।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল কে এম আশরাফুল ইসলাম তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, "এই মাদ্রাসায় আমার যোগদানের বয়স মাত্র আড়াই মাসের মতো। দায়িত্ব নিয়েই আমি অভিভাবকদের সাথে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বসি। তাঁদেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ছিল—বাচ্চাদের আনন্দের জন্য এবং অতিরিক্ত শিক্ষার অংশ হিসেবে এমন একটি সহশিক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করা। সেই চিন্তা থেকেই এই প্রগতি ট্যালেন্ট ফেস্ট।"
গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমে অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নানা পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অনেক অভিভাবক নিষেধ করলেও, সিংহভাগ অভিভাবকের আগ্রহ ও পরামর্শের কারণেই আমরা এই প্রোগ্রামটি করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই। আজ বাচ্চাদের প্রতিভা দেখে আমরা নিজেরাও আবেগাপ্লুত। এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের মেধার এক বড় বিকাশ ঘটিয়েছে। সংক্ষিপ্ত হলেও এই প্রোগ্রাম থেকে সবাই যে অনুপ্রেরণা পেয়েছে, তা আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠন করতে এবং পিতা-মাতার চক্ষু শীতলকারী সন্তান তৈরিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।"
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ