প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 18 June 2026, 15:46 ইং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কার্যক্রম চলছে বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে এই দুই দেশে গোষ্ঠীটির সম্ভাব্য তৎপরতা ইসরায়েল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-র জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কাউলকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এই বিস্ফোরক দাবি করেন।
রিউভেন আজার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও চরমপন্থী প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন তিনি এবং চরমপন্থা মোকাবিলায় ইসলামাবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও স্পর্শকাতর দাবিটি ছিল হামাসকে কেন্দ্র করে। আজার বলেন:
"আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছি। চরমপন্থী সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরের হামলাকে অন্য জায়গায় নিজেদের কার্যক্রম চালানোর একটি মডেল কিংবা উদাহরণ হিসেবে দেখতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।"
তিনি স্বীকার করেন যে, কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ্যে থাকা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হলেও, এর বাইরেও কিছু কার্যক্রম থাকতে পারে—যা আপাতত জনসাধারণের নজরের আড়ালে রয়েছে। ইসরায়েল ইতিমধ্যে তাদের এই উদ্বেগের কথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করার জন্য পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে রিউভেন আজার সাফ জানান, ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে সতর্কতার সঙ্গে দেখে। ইসলামাবাদ নিজেকে আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টার অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, তারা কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া ও অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ নিয়ে নজরদারির মুখোমুখি হচ্ছে।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘এমন কিছু দেশ আছে যারা মনে করে, শান্তি মানে এমন এক পরিস্থিতির প্রচার করা, যেখানে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’’ শান্তির বিষয়ে ইসরায়েলের ধারণা অঞ্চলের কিছু পক্ষের চেয়ে মৌলিকভাবেই আলাদা উল্লেখ করে তিনি কেবল পাকিস্তানই নয়, আঞ্চলিক বিষয়ে কাতারের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জানান, চরমপন্থী আন্দোলনের ওপর নজর রাখেন এমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও ব্রিফিংয়ের বিষয়টিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহিত করেছেন। কট্টরপন্থী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য বিস্তারকে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে তেল আবিব।
পাশাপাশি, পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থার কিছু অংশের বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাব উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন আজার। তিনি বলেন, পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কিছু নেতিবাচক মন্তব্য ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আস্থা রাখার সুযোগ কমিয়ে দেয়।
ইরানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝেই ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে এনডিটিভি। আঞ্চলিক কূটনীতি এবং তেহরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আজার বলেন, ইরানকে যুক্ত করে হওয়া যেকোনো চুক্তি যেন নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক হুমকিগুলোর স্থায়ী সমাধান করে, সেদিকেই ইসরায়েলের মূল মনোযোগ রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি।