প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 10 July 2026, 09:21 ইং
১২ ঘণ্টার রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে যশোর: তীব্র জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে শহরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার :
মাত্র ১২ ঘণ্টার টানা ও রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে যশোর পৌরসভা। আজ শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন বৃষ্টির কারণে শহরের সিংহভাগ সড়ক ও নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। থমকে গেছে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে আজ শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু শুক্রবার ভোর ৬ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘণ্টাতেই ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা এই ভারী বর্ষণের ফলেই দ্রুত তলিয়ে যায় শহরের নিচু এলাকাগুলো।
সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি এখন পানির নিচে। বিশেষ করে শহরের টিভি ক্লিনিক মোড়, ষষ্ঠীতলা, আরবপুর মোড়, সরকারি এম এম কলেজের সামনে, ফুড গোডাউন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সম্মুখভাগ, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশ এবং শংকরপুর এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার রাস্তাঘাটে কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে গেছে। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নোংরা পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেবল বৃষ্টি নয়, এই নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার পেছনে মূল কারণ শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো। শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সরাসরি পৌর ড্রেনে ফেলার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ড্রেনের নিচে নদীর মতো পলি ও কাদা জমে আছে। এই আবর্জনার স্তূপের কারণে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে পারছে না। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ড্রেন ময়লা ও পলিমাটিতে ঠাসা হয়ে আছে।
শহরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত হওয়ায় এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বৃষ্টির পানি নামতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে, যা কৃত্রিম বন্যার রূপ নিয়েছে। এই তীব্র জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে পৌর কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের জরুরি ব্যবস্থা নেয় এবং একটি স্থায়ী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে, সেই দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ