প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 11 July 2026, 04:45 ইং
১২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভাসছে কেশবপুর, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে পৌর এলাকাসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই বৃষ্টিতে বসতভিটার আঙিনা, বাগান ও নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের সাময়িক দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে জনজীবনে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হলেও স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা বলছেন— এই বৃষ্টি চলতি মৌসুমের কৃষি ও মৎস্য খাতের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
সরেজমিনে কেশবপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলার পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ঘরবাড়ির আঙিনা, গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা ও নিচু জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাগান ও পুকুরপাড়ও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বের হতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা। কাঁচা রাস্তাগুলো কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তীব্র গরমের পর এই বৃষ্টি স্বস্তি আনলেও জলাবদ্ধতার কারণে শিশু, বয়স্ক ও দিনমজুররা বিপাকে পড়েছেন।
গড়ভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, "রাতভর বৃষ্টির কারণে বাড়ির আঙিনা ও সামনের রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। সকালে বাজারে যেতে অনেক কষ্ট হয়েছে। মূলত আমাদের এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই এই অবস্থা তৈরি হয়।"
পৌরবাসী ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দ্রুত এসব প্রাকৃতিক খাল-নালা পরিষ্কার ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর দাবি জানান।
অপরদিকে, জলাবদ্ধতার নেতিবাচক প্রভাবের বিপরীতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে উপজেলার কৃষি ও মৎস্য খাতে। পাঁজিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, এই বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের পাটের অনেক উপকার হয়েছে। পাট কাটার পর তা জাগ দেওয়ার জন্য এলাকার খাল-বিল ও খানা-খন্দে এখন পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে।
একই ধরনের স্বস্তির কথা জানিয়েছেন গৌরীঘোনা ইউনিয়নের মাছচাষি শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, "চলতি মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে ঘেরের পানির স্তর অনেক কমে গিয়েছিল। এই ভারী বৃষ্টিতে ঘেরে পানির পরিমাণ বেড়েছে, যা মাছের বৃদ্ধির জন্য দারুণ পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে আর কয়েকদিন যদি এভাবে টানা বৃষ্টি হতে থাকে, তবে নিচু এলাকার ঘেরগুলো ভেসে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।"
সব মিলিয়ে রাতভর হওয়া এই ভারী বর্ষণ কেশবপুরের জনজীবনে সাময়িক স্থবিরতা ও ভোগান্তি ডেকে আনলেও সামগ্রিকভাবে উপজেলার কৃষি, পাট চাষ ও ঘের ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ