প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 11 July 2026, 14:10 ইং
যশোর থেকে বিশ্বমঞ্চে: দেশের প্রথম ‘ব্ল্যাক বেল্ট ইন মেমরি’ খেতাব পেলেন হামিদুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ইউএস ব্রেইন অ্যাথলেট একাডেমি’ (US Brain Athlete Academy) থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ব্ল্যাক বেল্ট ইন মেমরি’ খেতাব অর্জন করেছেন যশোরের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মাইন্ড প্রোগ্রামার মো. হামিদুল হক। তাঁর এই আন্তর্জাতিক গৌরবময় অর্জন উদযাপন এবং মেধা-মননের বিকাশে ‘মন ও মস্তিষ্কের উৎকর্ষে মাইন্ড প্রোগ্রামিং’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার ও সম্মাননা অনুষ্ঠান আজ শনিবার যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিক উন্নয়ন ও সামাজিক সংগঠন ‘রাইজ অ্যান্ড থ্রাইভ’ (Rise & Thrive) এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।
খেতাবপ্রাপ্ত মো. হামিদুল হক যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষামূলক সংগঠন 'আইডিয়া' (IDEA)-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ এবং নেতৃত্ব গুণাবলী উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'রাইজ অ্যান্ড থ্রাইভ উইথ হামিদুল হক', যা মূলত মানুষের মনোযোগ বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তির রূপান্তর (স্ক্যান মেমোরি), স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল আসক্তি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দুইবারের মেমোরি চ্যাম্পিয়ন রন হোয়াইট-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই বছর মেয়াদি নিবিড় প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে এই সর্বোচ্চ খেতাব অর্জন করেন।
আজকের সেমিনারে মূল প্রবন্ধ (কী-নোট) উপস্থাপনকালে মো. হামিদুল হক বলেন, "মাইন্ড প্রোগ্রামিং মানুষের চিন্তা, দৈনন্দিন অভ্যাস ও মানসিক কাঠামোকে ইতিবাচকভাবে রূপান্তরিত করতে পারে। এর সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ যেকোনো বয়সের মানুষ একটি পরিকল্পিত, আত্মবিশ্বাসী ও লক্ষ্যভিত্তিক জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হন। এটি মানুষের কাজের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং উন্নত স্মৃতিশক্তি অর্জনে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।"
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি (জুম অ্যাপের মাধ্যমে) যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক অতিথি বক্তা, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নরওয়ের এনটিএনইউ (NTNU)-এর সাথে সম্পৃক্ত এআই (AI) ও ডিজিটাল অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ড. ফ্রোডে ভ্যান ডার লাক বলেন, "প্রযুক্তিনির্ভর আগামী পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে তার চিন্তাশক্তি, দ্রুত শেখার ক্ষমতা ও মানসিক অভিযোজন যোগ্যতা। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মস্তিষ্কের কার্যকর ব্যবহার ও মাইন্ড ডেভেলপমেন্টের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।"
সেমিনারে আমন্ত্রিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবু হাসানাত মো. আহসান হাবীব, গ্রোয়িং টুগেদার ওপিসি-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এস. আনোয়ার হোসেন এবং ব্রেভ হর্স ভেঞ্চারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. খ. ম. রেজাউল করিম।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক চিন্তাধারার বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি, পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হামিদুল হকের এই উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশের এই ঐতিহাসিক ও গৌরবময় সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন মো. হামিদুল হক। অনুষ্ঠানে যশোরের স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, স্বাস্থ্যসেবা ও করপোরেট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে দেশের জন্য এই গৌরব বয়ে আণায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ