প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 29 July 2026, 10:16 ইং
ভারতে পালানোর সময় যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’
স্টাফ রিপোর্টার:
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে তার তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে যশোর জেলা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসায়। রাত ৩টার দিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীসহ রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ বড় অঙ্কের চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র হামলার নেপথ্যে ছিল বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের ক্যাডার বাহিনী।
পূর্বে ‘ছোট সাজ্জাদ’ বড় সাজ্জাদের হয়ে এসব অপরাধ পরিচালনা করতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর মোবারক হোসেন ইমন (ডেভিড ইমন) এবং মোহাম্মদ রায়হান অপরাধ জগতের নেতৃত্ব নেওয়া শুরু করেন।
সম্প্রতি গত রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে ডেভিড ইমনের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)-কে চার রাউন্ড গুলি ও একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী দিনদুপুরে সিনেমার স্টাইলে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা।
হামলার মাত্র দুই দিন আগে (১১ জুলাই) ডেভিড ইমন পরিচয়ে একটি বিদেশি নম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনকে ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
“ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন... বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো। মুজিব থেকে গিয়ে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন।”
হুমকির পর দিনদুপুরে সেই হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ডিডিএন অফিসে হামলার স্থানটির পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসায় প্রকাশ্যে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এর আগে ২ জানুয়ারিও কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে একই বাসায় হামলা চালিয়ে জানালার কাচ ও দরজা গুলি দিয়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটির পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় থাকা সত্ত্বেও বারবার গুলির ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক দুর্ধর্ষ অপরাধ ঘটিয়ে পলাতক থাকা এই শীর্ষ সন্ত্রাসী অবশেষে সীমান্ত অতিক্রম করার পূর্বমুহূর্তে পুলিশের জালে ধরা পড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ