প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 05 August 2026, 14:31 ইং
‘অপসংস্কৃতি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বিনষ্টের বড় উপাদান’: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

স্টাফ রিপোর্টার :
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, "এই বাংলাদেশ বিএনপির একার নয়, সকলের। তাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব যার যার অবস্থান থেকে কাঁধে তুলে নিতে হবে।" ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আজকে আমরা গণতন্ত্রের কথা বলব, ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে কথা বলব। কিন্তু ফ্যাসিস্টরা গুরুজনদের অসম্মান করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে কটূকথা বলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য কিংবা ভর্ৎসনা করার যে অপসংস্কৃতি রেখে গেছে—এই ঘটনাগুলো ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বিনষ্টের বড় ক্রীড়নক।"
জুলাই সনদ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, "বিএনপি ও তারেক রহমানকে যখন জুলাই চেতনা কিংবা জুলাই সনদ শেখানোর চেষ্টা করা হয়, তখন আশ্চর্য হতে হয়। বিএনপি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, তার প্রতিটি শব্দ ও বাক্য বিএনপি ধারণ করে এবং তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
অধ্যাদেশ ও আইন পাসের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, "সংসদ অধিবেশনে সময়ের বাধ্যবাধকতার মধ্যে অধিকাংশ প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। তবে যে অধ্যাদেশগুলোর পরতে পরতে ভুল রয়ে গেছে, সেগুলো পর্যালোচনার জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। কারণ ভবিষ্যতে সত্যিই যদি ফ্যাসিস্টের পুনরাগমন রোধ করতে হয়, তবে এই আইনগুলোর ব্যাপক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ইতিপূর্বে ক্যাবিনেট মিটিংয়ে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ চড়ান্ত করা হয়েছে, যা শিগগিরই সংসদে পাস করা হবে।"
অভ্যুত্থানের বীরদের মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, "যারা জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের পাশে ছিলেন, তাঁদের কারও অবদানই আমরা ভুলিনি বা ছোট করে দেখছি না। বিএনপি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে।" এ সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে মাথায় গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা ইনাম সিদ্দিকী কেন পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হলেন—সে প্রশ্ন তোলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ‘জুলাই যোদ্ধা সংগঠন’ যশোর জেলা শাখা কর্তৃক উত্থাপিত ১০ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সংবর্ধনা প্রদান করেন।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, জামায়াত নেতা আবুল হাশিম রেজা, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যশোর জেলা শাখার নেতা নুরুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ