
যশোর প্রতিনিধি:
যশোর শহরের কোতয়ালী থানা এলাকার চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন (২৯) হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), যশোর। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত গোলাম রসুল (৩০)-কে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) ভোরে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার পুইশুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত গোলাম রসুল যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার লিয়াকত শেখের ছেলে।
পিবিআই সূত্রের তথ্যানুযায়ী, নিহত আল-আমিন হোসেন পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন। গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চৌরাস্তা মোড়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন তিনি। পরবর্তীতে বিকেল ৪:১৫ ঘটিকার সময় পূর্ব বারান্দীপাড়া লিচুতলা মাদ্রাসার পেছনে একটি মেহগনি বাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ীর মা বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-৮৬, তারিখ-২১/৮/২০২৬) দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই যশোর জেলা স্ব-প্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই মো. মাসুদকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।
পিবিআই যশোর জেলার পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ব্যবসায়ী আল-আমিনের সাথে আসামীদের দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত বিরোধ চলছিল। উক্ত বিরোধের জেরেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন কৌশলে ফোনে ডেকে এনে লিচুতলা মাদ্রাসার পেছনের মেহগনি বাগানে নিয়ে চাকু দিয়ে কুপিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে আল-আমিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও জানান, অপরাধ সংঘটনের পর আসামীরা সিসিটিভি ফুটেজ এড়িয়ে তাড়াহুড়ো করে এলাকা ত্যাগ করে এবং মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত গোলাম রসুলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।