প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 27 August 2026, 12:15 ইং
সাড়াপোল স্কুলে দুর্নীতির অভিযোগ: প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর সদর উপজেলার সাড়াপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া পারভিন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর কুমার দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি তদন্তে সরেজমিনে গিয়ে আগামী রবিবার থেকে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
গত ১৯ আগস্ট বিদ্যালয়ে এক অনভিপ্রেত ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে। শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ—প্রধান শিক্ষক ভূগোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিকভাবে পাঠদান করেন না এবং ক্লাসে অসংলগ্ন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সাথে অকথ্য ভাষায় দুর্ব্যবহার, কারণে-অকারণে হুমকি প্রদান, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় এবং অতিরিক্ত প্রাইভেট ও গাইড বই কেনার চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা। একই সাথে ল্যাব সুবিধা না থাকা, রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায়, আইসিটি ও পিকনিকের টাকা আত্মসাৎ এবং ভূগোল ক্লাসের সময় খাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে ১৯ আগস্ট প্রধান শিক্ষকের রুমে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও সিসিটিভি মনিটর সহ আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
সহকারী শিক্ষক জাহিদ হোসেন ও মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক পাপিয়া পারভিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অব্যবস্থাপনার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকরা জানান, ২০২৪ সাল থেকে শিক্ষকদের বিভিন্ন আর্থিক ভাতা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া বহির্গত লোকের মাধ্যমে অর্থ আদায়, ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণের বিষয় তুলে ধরে ইতিপূর্বে শিক্ষকবৃন্দ ইউএনও (UNO) বরাবর লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর সহকারী প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর কুমার দাসও নিপীড়ন ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন বলে শিক্ষকরা দাবি করেন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশক্রমে সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান যশোর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম সাইফুল আলম।
তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সাথে পৃথক বৈঠক করেন এবং শিক্ষার্থীদের লিখিত দাবি ও বক্তব্য গ্রহণ করেন। পরিদর্শনের পর শিক্ষা অফিসার জানান, "সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসবেন না—আমরা শিক্ষার্থীদের এই নিশ্চয়তা দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের নিজেদের, পরিবারের ও জাতির স্বার্থে ক্ষতি না করে শ্রেণি কক্ষে ফিরে যায়, সেই আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আগামী রবিবার থেকে নিজ নিজ শ্রেণি কক্ষে ফিরবেন এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।" সম্পূর্ণ বিষয়টি পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্যের জন্য প্রধান শিক্ষক পাপিয়া পারভিন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ