প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 07 October 2026, 09:32 ইং
দিল্লিতে ৯ ঘণ্টার উত্তপ্ত বিক্ষোভের পর আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা ৯ ঘণ্টা রাজপথে অবস্থান কর্মসূচির পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর ২০২৬) গভীর রাতে দিল্লির আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকে কংগ্রেস কর্মীদের বাধা ঠেলে তাঁদের জোরপূর্বক বাসে তুলে উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘একতরফা’ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতে (এসআইআর) বড় ধরনের ‘অনিয়মের’ অভিযোগে এই আন্দোলনের ডাক দেয় বিরোধী ইনডিয়া জোট। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী দিল্লির রাজপথে নামেন। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকেও গান্ধী ভাই-বোনকে সাময়িক সময়ের জন্য আটক করা হলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাতে টানা ৯ ঘণ্টার অবস্থান শেষে পুলিশ চরম শক্ত অবস্থানে গিয়ে তাঁদের আটক করে।
আটক হওয়ার আগে আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন ভবন এখান থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে, কিন্তু আমাদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা। কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের অন্তত ৩০০ জন সংসদ সদস্য সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চান, কিন্তু তিনি ভয় পাচ্ছেন।”
সরকার ও কমিশনের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “জনপ্রতিনিধিরা যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখাই করতে না পারেন, তবে এই গণতন্ত্রের অর্থ কী?”
কংগ্রেসের সূত্র জানায়, বিরোধীদের দাবি ছিল আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে ৩০০ জন এমপিকে নিয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠকের লিখিত আশ্বাস মিললে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করা হবে।
তবে রাত ৯টার দিকে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরোধী জোটের লিখিত কোনো আবেদনের চিঠি পাওয়া যায়নি।
কমিশন বিবৃতিতে উল্লেখ করে, “বিকেল ৪টার পর দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের (ডিসিপি) মাধ্যমে বিরোধীদের একটি প্রস্তাব আসে, যেখানে ২৪০ জন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে পার্লামেন্ট হাউস অ্যানেক্সে বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতিনিধি দলের বৈঠক নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কার্যালয়ের ভেতরেই অনুষ্ঠিত হতে হয়। ফলে বিপুলসংখ্যক এমপিকে নিয়ে প্রোটোকল বহির্ভূত এই অনভিপ্রেত প্রস্তাবটি কমিশন অগ্রহণযোগ্য মনে করেছে।”
কমিশনের এই বক্তব্যের পর রাজপথে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে, যা গড়ায় শীর্ষ বিরোধী নেতাদের আটকের মধ্য দিয়ে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ