প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 07 October 2026, 09:18 ইং
সংবিধানে ফিরছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট, জুলাই যোদ্ধাদের সাংবিধানিক সুরক্ষার ঘোষণা

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
বাংলাদেশ সংবিধানে পুনরায় ফিরছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক সংশোধনীতে জনগণের চূড়ান্ত রায় নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক গণভোটের বিধান। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিতের পাশাপাশি এর বীর রাজনৈতিক ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের (জুলাই যোদ্ধা) বিচারিক আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে সংবিধানের তফসিলে সুরক্ষার (দায়মুক্তি) বিধান যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর ২০২৬) সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতেই প্রস্তাবিত নতুন সংবিধান সংশোধনী বিল প্রস্তুত করে জাতীয় সংসদে তোলা হবে। রাজনৈতিক দলগুলো সনদে যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ একমত পোষণ ও স্বাক্ষর করেছে, সরকার ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের মূল অংশ বা প্রস্তাবনায় যুক্ত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বিচারিক বাধ্যবাধকতা ও ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা এড়াতে সংবিধানের সুনির্দিষ্ট তফসিলে স্থান দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানকালে সংগঠিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাসহ মূল দোষীদের সাজা দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করতে তদন্ত, প্রসিকিউশন ও চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া গতিশীল করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংবিধানে গণভোট ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি বলেন, “সামনে সংবিধানের যেসব মৌলিক পরিবর্তন আসছে—বিশেষ করে প্রস্তাবনা, মূলনীতি, বিচারবিভাগ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংশোধনী বিল পাসের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগেই জনগণের রায়ের জন্য গণভোট আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।” হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী পঞ্চদশ সংশোধনীর সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়াতেই আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া সহজ হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর বিষয়ে তিনি জানান, ১৯৯৬ বা ২০০৬ সালের হুবহু অনুকরণে কিছু করা হচ্ছে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকার গঠিত হবে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাবেক বিচারপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তবে অতীতে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় রাষ্ট্রপতির কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব অর্পণের অপশনটি বাদ দেওয়ার পক্ষে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদের আলোচনার মধ্য দিয়েই নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সব রাজনৈতিক শক্তির মতামত ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে একটি সর্বজনগ্রাহ্য সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদ ভবনে জমা দেওয়া হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ