প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 12 October 2026, 10:52 ইং
যশোরে করিমন চুরির সন্দেহে গণপিটুনি: একজন নিহত, আহত ১, বাওড়ে খোঁজ চলছে নিখোঁজের

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যশোর সদর উপজেলায় করিমন (আলমসাধু) চুরির সন্দেহে সংঘবদ্ধ গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান (৪৬) নামের আরও এক ব্যক্তি আহত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া জীবন বাঁচাতে গিয়ে পাশের বাওড়ের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আল আমিন (৪০) নামের আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। আহত মনিরুজ্জামানের বাড়ি ঝিকরগাছা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে এবং নিখোঁজ আল আমিনের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়। আল আমিন নিহত মিজানুর রহমানের ভায়রা ভাই বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে নারাঙ্গালী গ্রাম থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত করিমন (আলমসাধু) চুরি করে পালানোর চেষ্টা করছিলেন ওই ব্যক্তিরা। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন চান্দুটিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্ক করেন। খবর পেয়ে চান্দুটিয়ার লোকজন তাঁদের ধাওয়া করেন।
একপর্যায়ে পালানোর সময় স্থানীয়রা দুজনকে ধরে ফেলেন এবং সংঘবদ্ধভাবে মারধর (গণপিটুনি) করেন। এ সময় জীবন বাঁচাতে বাকি একজন পাশের সুইস খাল বা বাওড়ের পানিতে ঝাঁপ দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত মিজানুর রহমান ও মনিরুজ্জামানকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর থেকে আল আমিন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বাওড়ে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের চেষ্টা চলছে। তিনি পানিতে ডুবে গেছেন নাকি পালিয়ে গেছেন, তা তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ