প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 29 October 2026, 01:30 ইং
১১ দিন পর মণিরামপুরে পৌঁছাল মরদেহ, একই সারিতে দাফন হলো চারজনের

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দীর্ঘ ১১ দিন পর যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। মরদেহ পৌঁছানোর পর পুরো গ্রামজুড়ে নেমে আসে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ ও শোকের ছায়ায়। গতকাল নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন—মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন, তাঁর স্ত্রী আফসানা খাতুন এবং তাঁদের দুই অবুঝ শিশুসন্তান ইনায়া ও ইহানা। নিহত নাহিদুর রহমান তুহিন ঢাকার শ্যামলীর ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’-এর কর্মকর্তা ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার ছুটিতে গত ১৫ অক্টোবর পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান তুহিন। ১৬ অক্টোবর তাঁরা ইনানীর ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ওঠেন এবং ১৮ অক্টোবর দুপুরে চেকআউট করার কথা ছিল। তবে তার আগেই গত ১৭ অক্টোবর ভোরে রিসোর্টটিতে লাগা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে একই পরিবারের এই চারজনসহ মোট ১০ জন মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন।
আগুনে পুড়ে দেহ চেনা কঠিন হয়ে পড়ায় এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ টেস্টের বাধ্যবাধকতার কারণে মরদেহ শনাক্তকরণে বেশ সময় লাগে। গত সোমবার বিকেলে কক্সবাজার পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারটির স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। আজ ভোরে মরদেহগুলো গ্রামে এসে পৌঁছায়।
গতকাল সকালে মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রিয়জনদের এমন আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নিহতের পিতা মতিয়ার রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তাহীনতার কারণেই আজ চারটি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল। অবিলম্বে এসব অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট বন্ধ করার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে একই সারিতে তাঁদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ