নিজস্ব প্রতিবেদক :
নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের শরীরে ‘বডি ক্যামেরা’ থাকবে, যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। তাই এটি সুষ্ঠু হতেই হবে।” তিনি আরও জানান, মাঠ প্রশাসনে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছে, ফলে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।
বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গণভোট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, সরকার আইনসম্মতভাবেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রয়োজন এবং এর মাধ্যমে কী কী সংস্কার সম্ভব, তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এই প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এনসিপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
বৈঠক শেষে এনসিপি নেতারা জানান, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের নেওয়া কারিগরি পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :