• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

উন্নয়নের প্রয়োজনে আবারও ধানের শীষে আস্থা রাখতে চান যশোর সদর উপজেলাবাসী


FavIcon
Swapnobhumi
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩২
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর:
উন্নয়নের প্রয়োজনে আবারও ধানের শীষে আস্থা রাখতে চান যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নবাসী। বিগত ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা ধানের শীষে আস্থা রাখায় তাদের গর্বের প্রতিষ্ঠান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছেন। এই গর্বের প্রতিষ্ঠানটি তাদের নাম বিশ্ব মাঝে পরিচিতি দান করেছে। যশোর তথা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদের উন্নয়নের কারিগর খ্যাত সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।  তবে ইউনিয়নবাসী তরিকুল ইসলামের যোগ্য উত্তরসূরী যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ধানের শীষে আস্থা রাখতে চান। দীর্ঘ ১৭ বছরের উন্নয়ন বঞ্চিত চুড়মনকাটি ইউনিয়ন বাসী এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার দিনভোর অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চূড়ামনকাটি ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। পথে পথে ইউনিয়নবাসী তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। প্রচারণার শুরুতে চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের খিতিবদিয়া হিন্দু মুসলিম নারী পুরুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন। সেখানে কোমলমতি শিশুরা উচ্ছসিত হয়ে  অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। তিনি শিশু বৃদ্ধ সকলকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রচাণার শুরুতে চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারসহ প্রয়াত সকলকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ এবং তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
গণসংযোগকালে চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও যশোর জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, তরিকুল ইসলাম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি আমাদের দেশে গন্ডি পেরিয়ে বিশ^বাসীর দরবারে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তরিকুল ইসলাম আমাদের ইউনিয়নের গবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চুড়ামনকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝাউদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সী মেহেরুল একাডেমির নতুন ভবন নির্মাণ সহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনি উন্নয়ন করেছেন। একই সাথে তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছেন। আমরা আবার এই অঞ্চলের উন্নয়ন চাই।
পরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আমবটতলা বাজারে তারুণ্যের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত তরুণ যুব সমাজ গড়তে চাই। দেশের মুল চালিকা শক্তি দেশের তরুণ ও যুবকদেরকে আমরা সম্পদে পরিণত করতে চাই। স্কুল থেকে তাদেরকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের স্পষ্ট বার্তা চাকরির শর্ত মেধা এবং যোগ্যতা। বিএনপি নেতার সন্তান কিংবা ছাত্রদল পরিচয়ে কারও চাকরি হবে না। নিজেকে তৈরি করে মেধা এবং যোগ্যতা প্রমাণ দিয়ে চাকরি করতে হবে। আমরা এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের সন্তানেরা দেশের গন্ডি পেরিয়ে সারা বিশে^র সাথে প্রতিযোগিতা করতে তার জন্য আমরা স্কুল থেকে তাদেরকে গড়ে তুলতে চাই। তার জন্য স্কুল পর্যায়ে বাংলা ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা চালু করতে চাই। সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে চাই। আমার পিতা তরিকুল ইসলাম যশোরকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আপনাদের সকলেই সহযোগিতা উনি সেটি করতে পেরেছিলেন। 
চুড়ামনকাটির বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সভায় তিনি আরও বলেন, রাজনীতি মানে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো নয়। রাজনীতি মানে সেবক হিসেবে  মানুষের পাশে থাকা।  তাদের  সকল  বিপদে, আপদ, সংকটে পাশে থাকা এবং  জীবন মান উন্নয়নে কাজ করা। বিএনপি উন্নয়নের রাজনীতি করে। আমাদের অভিভাবক তরিকুল ইসলামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। আমাদের অভিভাবক তরিকুল ইসলাম এই অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির  পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছিলেন। তিনি কাঁচা পাকা মিলে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু গেল ১৬ বছর চূড়ামনকাটির উন্নয়নের চাকা থমকে গেছে। আপনাদের সহযোগিতায় আমি নতুন করে উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনতে চাই। যশোরের প্রকৃত রাজনৈতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে  আনতে চাই। রাজনৈতিক কিংবা ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে মানুষের মধ্যে বিভাজন রেখা টানতে দেব না। আমার পিতার মতো আমিও আগামী দিনে আপনাদের সকলের সহযোগিতায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত নিরাপদ যশোর গড়বো ইনশা আল্লাহ।
তিনি বাদিয়াটোলা বাজার, বাদিয়াটোলা পশ্চিম পাড়া, ঝাউদিয়া বাজার, বাগডাঙ্গা, আহসান নগর বজরা বাজার, পুলতাডাঙ্গা, জগহাটি, শ্যামনগর বেলের মাঠ, কমলাপুর, গোবিলা, সাজিয়ালি, আব্দুলপুর, চুড়ামনকাটি দাস পাড়া, চুড়মনকাটি বাজারে গণসংযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, সদর উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি সেলিনা পারভীন শেলী, চূড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদ প্রমুখ।