ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬, ১৪:৪৮
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘রিজিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যাণ্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসায় সাদিয়া (২৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীমুর রাজীব।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. দিলরুবা ফেরদৌস ডায়না। এছাড়া অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. দিদার এ ইলাহী ইমু ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমান সবুজকে সদস্য করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক সুস্পষ্ট মতামতসহ একটি প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জন বরাবর দাখিল করতে কমিটির নিকট অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সুলাইমানের স্ত্রী সাদিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে গত ২৮ এপ্রিল তাকে ‘রিজিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যাণ্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে সবকিছু ঠিক আছে বলে রোগীকে দুই দিন ভর্তি রেখে চিকিৎসাও দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পর রোগী (সাদিয়া) পুনরায় অসুস্থ পড়লে তাকে খুলনা আদ্ব-দীন আকিজ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ মে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মৃত সাদিয়ার স্বামী সুলাইমান বাদী হয়ে ‘রিজিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যাণ্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের’ পরিচালকের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ভুল চিকিৎসায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীমুর রাজীব বলেন, ‘তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির তালিকা হাতে পাওয়ার পর সভাপতিসহ দুই সদস্যকে জানানো হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুরোধ করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভুক্তভোগী সুলাইমান তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে অভয়নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। থানা কর্তৃক সেই অভিযোগের কপি আমার দপ্তরে আসলে তা জেলা সিভিল সার্জন অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তের নিদের্শনা এসেছে।’
আপনার মতামত লিখুন :