তালাক দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা, স্বামীকে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৭
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের অভয়নগরে তালাক দেওয়ায় সাদিয়া বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূকে লোহার তৈরি ধারালো বাটালি (কাঠ খোদাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়) দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে শাহীমোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত সাদিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে খুলনার কয়রা থানার উলা গ্রামের গিলাবাড়ি এলাকার শুকুর গাজীর মেয়ে। এ ঘটনায় সাবেক স্বামী মো. রহমতকে (৩০) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে আহত সাদিয়ার মা রেবেকা বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত মো. রহমতের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী রেবেকা বেগম বলেন, ‘সাদিয়া ছোট বেলা থেকে অভয়নগরের গুয়াখোলা গ্রামের শাহীমোড় এলাকায় তার নানা আনোয়ার গাজী ও নানি জরিনা বেগমের সঙ্গে বসবাস করে। প্রায় ৫ বছর পূর্বে সাদিয়ার সঙ্গে গুয়াখোলা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রহমতের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। বর্তমানে তার বয়স ৪ (চার) বছর, নাম আব্দুল্লাহ। কিন্তু গত এক বছর ধরে রহমত আমার মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। যে কারণে ৩ মাস পূর্বে রহমতের সঙ্গে সাদিয়ার তালাক হলে সে পুনরায় তার নানা-নানির বাড়িতে ছেলেকে নিয়ে বসবাস শুরু করে। এরপর থেকে রহমত আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিতে থাকে।’
রেবেকা বেগম আরো বলেন, ‘ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় রহমত লোহার তৈরি একটি ধারালো বাটালি নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় সে চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ওই অস্ত্রসহ রহমতকে আটক করে। এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে আমি নিজে বাদী হয়ে রহমতের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেছি।’
এলাকাবাসী জানায়, গুরুতর আহত সাদিয়াকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে উত্তেজিত জনতা রহমতকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
অভিযুক্ত রহতম বলেন, ‘সাদিয়া আমার না হলে অন্য কারো হতে পারবে না। যে কারণে তাকে বাটালি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছি।’
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে শনিবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে লোহার তৈরি ধারালো বাটালিসহ রহমত নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে আহত সাদিয়ার মা বাদী হয়ে রহমতের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার পর অভিযুক্তকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :