• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬, ১৪:১৮
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্পোর্টস ডেস্ক :
টানটান উত্তেজনা, শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত আর শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে জয়সূচক গোল! নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ১-১ সমতায় ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন সাগরিকা। ইনজুরি টাইমের নাটকীয় গোলে হিমালয়ের দেশটিকে স্তব্ধ করে ফাইনালে পা রাখল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, এর আগের দুই আসরে শুধু ফাইনালে ওঠাই নয়, এই নেপালকে হারিয়েই দুবার শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও তাদের হারিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপার মঞ্চে পা রাখল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

গ্রুপ পর্বে ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উড়তে থাকা নেপাল এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। শুরুতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের খেলায় কিছুটা ছন্নছাড়া ভাব ছিল। সেই সুযোগে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে লিড নেয় নেপাল। দীপা শাহির নেওয়া কর্নার কিক থেকে চমৎকার গোলে দলকে এগিয়ে নেন গীতা রানি।

১-০ তে পিছিয়ে পড়ার পর গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ৩৬তম মিনিটে ভাগ্যর জোরে আরও একটি গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় দল। নেপালের প্রীতি রাজের একটি দূরপাল্লার শট গোলকিপার মিলি আক্তারের হাতে লেগে গোলপোস্টে প্রতিহত হয়।

তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। যার ফল আসে বিরতির ঠিক আগে। কর্নার থেকে সরাসরি চোখ ধাঁধানো শটে গোল করে বাংলাদেশকে ১-১ সমতায় ফেরান তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা। এই সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও ভাগ্য সহায় হয় বাংলাদেশের। নেপালি ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলিকে পরাস্ত করে বল জালের দিকে পাঠালেও তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। তবে সাগরিকার নেওয়া একটি দুর্দান্ত শট লাফিয়ে পড়ে দারুণ দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন নেপালের গোলকিপার সুব্বা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় যোগ করা ৬ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়েরও তখন প্রায় ৩ মিনিট পার হয়ে গেছে। সবাই যখন ধরে নিয়েছেন ম্যাচ টাইব্রেকারে বা অতিরিক্ত সময়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে বল বাড়িয়ে দেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। ডি-বক্সের ভেতর চলন্ত বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে নেপালের জালে বল পাঠান স্ট্রাইকার সাগরিকা। উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশের ডাগআউট ও সমর্থকেরা। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে মারিয়া মান্দার দল।

এবারের টুর্নামেন্টে গ্রুপ রানারআপ হয়ে সেমিফাইনালে এসেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারালেও পরের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে সেমিফাইনালের এই মহানাটকীয় জয় ফাইনালের আগে মারিয়া-সাগরিকাদের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী করে তুলবে তা বলাই বাহুল্য।