• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

বেতন বৈষম্য দূরসহ দুই দফা দাবিতে যশোরে ডাক কর্মচারীদের মানববন্ধন


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:২৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক
উপরিভাগের কর্মকর্তারা উচ্চ স্কেলে বেতন পেলেও মাঠপর্যায়ের শাখা ডাকঘর কর্মচারীরা চরম বৈষম্যের শিকার। মাত্র ৪ হাজার ৪০০ টাকা ভাতায় বর্তমান বাজারে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব। এই তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও বৈষম্য দূর করতে এবং কেন্দ্রীয় ঘোষিত 'দুই দফা দাবি' দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যশোরে মানববন্ধন করেছেন ডাক কর্মচারীরা। দাবি পূরণ না হলে আগামী ৬ জুলাই সোমবার থেকে দেশের সব শাখা ডাকঘরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণ কর্মবিরতি পালনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-বি-২০৩১), বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি এবং বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদ যশোর জেলা কমিটি যৌথভাবে এই কর্মসূচির ডাক দেয়।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ডাক বিভাগ আধুনিক ও উন্নত হলেও ইডি বা শাখা ডাকঘরের কর্মচারীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিন-রাত চিঠিপত্র ও সরকারি নানামুখী সেবা পৌঁছে দিয়ে ডাকসেবা সচল রাখতে তারা প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে নামমাত্র ভাতায় কাজ করা একপ্রকার দাসত্বের শামিল। ন্যায্য দুই দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি ডাকসেবার মান আরও উন্নত হবে।

বক্তারা জানান, তারা সংঘাত বা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চান না, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। এর আগে গত ১৭ ও ১৮ জুন ঢাকায় ডাক অধিদপ্তরের সামনে দুই দফা দাবি আদায়ে অনশন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং পরবর্তীতে তিন দিনের কলম বিরতিও দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও প্রশাসন দাবি বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ জুলাই থেকে দেশব্যাপী পূর্ণ কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় মতবিনিময় সভা ও ধর্মঘটের পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে নগদ অর্থ, খাম, ডাকটিকিট, রাজস্ব হিসাব সমন্বয় ও চিঠি-পার্সেল বিতরণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ৬ জুলাই থেকে দেশের প্রতিটি শাখা ডাকঘরের সামনে ধর্মঘটের ব্যানার টানানোর আহ্বান জানানো হয়।

তাদের প্রধান দুই দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ইডি বা শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের মূল বেতন বৈষম্য দূর করে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা স্কেল ঘোষণা করতে হবে এবং চাকুরি স্থায়ীকরণ বা রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে। সরকারি অন্যান্য দপ্তরের মতো শতভাগ উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা, চিকিৎসা ভাতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের জন্য পোশাক ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট (বাইসাইকেল) প্রদান করতে হবে।

সারাদেশের ন্যায় যশোরের এই বৈষম্যবিরোধী মানববন্ধনে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ডাক কর্মচারি ইউনিয়ন যশোর জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকাশ,খুলনা বিভাগীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোছাঃ শাহানাজ পারভিন, জেলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক
রোজিনা খাতুন।  

এছাড়াও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, ঝিকরগাছা থানার সভাপতি মো. আলম, শার্শা থানার সভাপতি মোঃ আলী, কেশবপুর থানার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, মনিরামপুর থানার সভাপতি মো. বাবলু, বাঘারপাড়া থানার সভাপতি আব্দুর রব, চৌগাছা থানার সভাপতি মোঃ সুলতান, বারোবাজার থানার সভাপতি শ্রী প্রাণেশ, অভয়নগর থানার প্রতিনিধি মোঃ আল-আমিন ও নড়াইল প্রতিনিধি মোঃ রনি।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দৃঢ় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আগামী সোমবার থেকে গ্রামীণ ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হবে।