হুযাইফা-হুসাইনের চলার সঙ্গী হলেন ইউএনও
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১২
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
দুই মেয়ের পর পাঁচ বছর আগে বাবা-মায়ের কোল জুড়ে আসে হুযাইফা ও হুসাইন। এক সাথে জন্ম নেওয়া দুই ছেলের মুখ দেখে মহা আনন্দিত মনিরামপুরের হাঁসাডাঙ্গা গ্রামের রুস্তম আলী ও রাজিয়া বেগম দম্পতি। জমজ দুই সহোদরের বয়স যখন ১০ মাস তখন তাদের বাবা মা অনুমান করেন তাদের দুই ছেলে প্রতিবন্ধী। এরপর নিলেন বিশেষজ্ঞ এক চিকিৎসকের কাছে। তখন পরিবারটি জানতে পারলেন তাদের কোল জুড়ে আসা দুই ছেলে হাঁটতে অক্ষম। এরপর রাজমিস্ত্রির কাজ করে দরিদ্র রুস্তম আলী দুই সন্তানকে চিকিৎসা করাতে শুরু করেন।
কিন্তু পরিবর্তন আসেনি শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার।
হুযাইফা-হুসাইনের বয়স এখন পাঁচ বছর। হাঁটতে চলতে না পারা দুই ছেলেকে নিয়ে কষ্টের দিন তাদের বাবা মায়ের। অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ। দুই ছেলের জন্য দুটো হুইল চেয়ার কেনা হয়ে পড়ে রুস্তম আলীর জন্য দুঃস্বপ্ন। বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির দ্বারে হেঁটে হুইল চেয়ার জুটাতে ব্যর্থ হন রুস্তম আলী।
সম্প্রতি হুযাইফা-হুসাইনের বিষয়টি মনিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনের নজরে আনেন শফিকুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক। তাঁর মাধ্যমে খবর পেয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় হাঁসাডাঙ্গা এলাকায় রুস্তমের বাড়িতে দুটো হুইল চেয়ার নিয়ে হাজির হয়েছেন ইউএনও সম্রাট হোসেন। হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন রুস্তম-রাজিয়া দম্পতি।
দুই শিশুর বাবা রাজমিস্ত্রি রুস্তম আলী বলেন, দুই মেয়ের পর আল্লাহ জমজ দুটো ছেলে দিয়েছে। তাদের জন্মের ১০ মাস পর বুঝতে পারি আমার ছেলে দুটো প্রতিবন্ধী। তারা হাঁটতে পারবে না। রাজমিস্ত্রির কাজ করে বহু ডাক্তার দেখাইছি। এখন অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ আছে।
রোস্তম আলী বলেন, ছেলে দুটোর বয়স এখন পাঁচ বছর। কোলে করে সরানো ছাড়া ওরা নড়াচড়া করতে পারে না। আমি পরের বাড়ির কাজে প্রতিদিন সকালে বেরিয়ে রাতে বাড়ি ফিরি। ওদের মা খুব কষ্টে ছেলে দুটোর দেখাশুনা করে। এখন ইউএনও হুইল চেয়ার দেছেন। আমার স্ত্রীর এবার কষ্ট কমবে। আমরা খুব খুশি হুইল চেয়ার পেয়ে।
মা রাজিয়া বেগম বলেন, ছেলে দুটোকে নাড়াচাড়া করাতে খুব কষ্ট। অনেকেরে কইছি হুইল চেয়ারের কথা। কেউ কোনদিন খোঁজ নিল না। অনেক হেঁটে একটা হুইল চেয়ার জুটাতে পারিনি। আজ ইউএনও স্যার দুটো হুইল চেয়ার আমার বাড়ি নিয়ে আইছে। এ খুশি রাখার জায়গা নেই।
ইউএনও সম্রাট হোসেন বলেন, শ্যামকুড় এলাকার স্থানীয় এক শিক্ষক আমাকে প্রতিবন্ধী (হাঁটতে অক্ষম) দুই জমজ সহোদরের খবর দেন। এরপর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় দুটো হুইল চেয়ার নিয়ে হাঁসাডাঙ্গা এলাকায় সেই শিশুদের বাড়িতে গিয়েছি। পরিবারটি জানিয়েছে, তারা বহুবার অনেকের কাছে হুইল চেয়ার চেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুইল চেয়ার পেয়ে তারা খুশি।
ছবি : মনিরামপুর জমজ দুই প্রতিবন্ধী সহোদরের বাড়িতে হুইল চেয়ার নিয়ে হাজির হয়েছেন ইউএনও সম্রাট হোসেন।
আপনার মতামত লিখুন :