• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য কঠোর হচ্ছে ইইউ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১২
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, স্বপ্নভূমি :
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অনিয়মিত পথে আসা অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোকে ‘জরুরি অগ্রাধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় কমিশন (ইসি)। জোটের অভিবাসন নীতি নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের একটি নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করে ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন থেকে ইউরোপই সিদ্ধান্ত নেবে কে সেখানে প্রবেশ করবে আর কে করবে না।

কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মাত্র ২৫ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে যান। এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে ইইউ’র বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত রাখা হবে। ইইউ একে একটি ‘উদ্ভাবনী চিন্তা’ হিসেবে দেখছে।

অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করলেও ইইউর অর্থনীতি সচল রাখতে মেধাবী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য পথ সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কমিশন। ইইউ’র বিভিন্ন খাতে শ্রম ও দক্ষতা ঘাটতি মেটাতে বিদেশিদের যোগ্যতা ও দক্ষতাকে দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্য হলো, মেধাবীদের কাছে ইইউকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

যারা প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে না, সেই দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন। ইতিমধ্যে লিবিয়া, তিউনিসিয়া, মিশর ও মরক্কোর মতো দেশগুলোর সঙ্গে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অর্থ ও বিনিয়োগ সহায়তার বিনিময়ে চুক্তি করেছে ইইউ। এই জোটভুক্ত দেশগুলোর বাইরে থাকা ‘তৃতীয় দেশগুলোর’ ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে নতুন নীতিতে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইইউর এই নতুন পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি একে ‘‘ত্রুটিপূর্ণ’’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছে যে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তৃতীয় দেশগুলোর ওপর অতি-নির্ভরতা ইইউকে সরাসরি ‘অধিকার লঙ্ঘনের’ সঙ্গে জড়িয়ে ফেলবে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে অনিয়মিত আগমন আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমেছে। তবুও ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় কমিশন এই কঠোর অবস্থান নিল। ইইউ’র অভিবাসন কমিশনার মাগনুস ব্রুনার বলেন, "অগ্রাধিকার স্পষ্ট—অনিয়মিত আগমন কমিয়ে আনা। অপব্যবহারের কারণে ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হয়, যা দক্ষ জনশক্তি আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।"