এখন চ্যালেঞ্জ একটি পারফেক্ট ভোট: ড. ইউনূস
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩:৪৮
স্টাফ রিপোর্টার :
সারা দেশে উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ি ও অভদ্র আচরণ ছাড়াই প্রচারণা চলছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য এক ইতিবাচক পরিবর্তন। এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি ‘পারফেক্ট’ বা নিখুঁত নির্বাচন উপহার দেওয়া।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার এই বার্তার কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা অত্যন্ত খুশি। এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে নিখুঁত করা। আগামী একটি সপ্তাহ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ (ক্রুশিয়াল)। আমি আশা করি, মানুষ পরিবার নিয়ে উৎসবে যোগ দেবে এবং এই ভোট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” বিশেষ করে নারীরা যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বডি ক্যামেরা ও অ্যাপ নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করছে সরকার। প্রেস সচিব জানান, সারা দেশের ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য পুলিশকে ২৫ হাজার ৭০০টি ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নিজে দেশের পাঁচটি স্থানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ কথা বলে এর কার্যকারিতা যাচাই করেন।
সহিংসতা রোধে এবার ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপটি মূলত প্রিজাইডিং অফিসার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কেন্দ্রের ভেতর বা বাইরে কোনো গোলযোগ দেখা দিলে অ্যাপের মাধ্যমে এক ক্লিকেই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন এবং নিকটস্থ নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এর আগে দুর্গাপূজায় ৩২ হাজার মণ্ডপে এই অ্যাপটি সফলভাবে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে এবার যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মুহূর্তের মধ্যেই হস্তক্ষেপ করতে পারবে।
আপনার মতামত লিখুন :