• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে গৃহায়নের মেগা উচ্ছেদ: ৪ শতাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে উদ্ধার ৫০ কোটির জমি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬, ১১:০৭
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
যশোরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। টানা দুই দিনের এই অভিযানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তিনটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ প্রায় ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫ একর সরকারি জমি, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।

গত রবিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে এই অভিযান চলে সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত। উপশহর গাবতলা মোড়, বি-ব্লক, সি-ব্লক, আমতলা বস্তি এবং হাইকোর্ট মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। প্রথম দিন বাবলাতলা এলাকায় সরকারি জমিতে নির্মিত একটি বাড়ি ভাঙার মাধ্যমে অভিযান শুরু হয়। এরপর গাবতলা মোড় ও বি-ব্লক বাজারে রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা ও আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে উপশহর পার্কসংলগ্ন আমতলা বস্তিতে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি এবং দুটি অবৈধ কারখানা গুঁড়িয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার দ্বিতীয় দিনে হাইকোর্ট মোড় এলাকায় বিএনপির একটি স্থানীয় কার্যালয়সহ আরও দুই শতাধিক ছোট-বড় স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান জানান, দখলদারদের জমি ছেড়ে দিতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার মাইকিং করা হলেও তারা সরে যায়নি। তিনি বলেন, “বারবার নোটিশ ও টালবাহানার পর আমরা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছি। প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

উচ্ছেদ চলাকালে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে অনেক দখলদার অভিযোগ করেছেন, তাদের কোনো পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে তারা এখানে বসবাসের সুযোগ পেয়েছিলেন। হঠাৎ এই উচ্ছেদে কয়েকশ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

অভিযানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।