• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উদযাপন


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬, ১১:৪৪
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজেস্ব প্রতিনিধি:
‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে উদযাপিত হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬। বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, যশোরের আয়োজনে জেলা শহরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স যশোরের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘গতি, সেবা ও ত্যাগ’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেশ ও জনগণের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের জানমাল রক্ষা করাই এ বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ফায়ার সার্ভিস সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়ায় বলেই প্রতিষ্ঠানটি জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, মানবিক বিভিন্ন উদ্ধার কাজেও জনগণের প্রথম ভরসা ফায়ার সার্ভিস।

অনুষ্ঠানে যশোর জেলায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম ও অর্জনের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় মোট ৩৮৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় প্রায় ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ জন।

এছাড়া বছরজুড়ে জেলায় মোট ৩৮৬টি সড়ক ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন আহত এবং ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে পাঠিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছরে ৩৫৬টি গণসংযোগ, ৩৪৫টি টপোগ্রাফি এবং শপিং মল, হাট-বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৬৮টি মহড়া পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৬টি কর্মসূচির মাধ্যমে ৩ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্স সেবার আওতায় গত বছরে ১৭৮টি কলে সাড়া দিয়ে ১৫০ জন রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, “আমরা সবসময় জনগণকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। আগুনসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মানুষ আমাদের ভালোবেসে ডাকে। অনেক কাজ আমাদের দায়িত্বের বাইরে হলেও মানবিক কারণে আমরা তা করি। দ্রুত সেবা দিতে চাই, তবে দূরত্ব ও যানজটের কারণে অনেক সময় বিলম্ব হয়।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার বলেন, “বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ফায়ার সার্ভিস ২৪ ঘণ্টা জনগণের সেবায় নিয়োজিত। ভবন নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত রাস্তা ও পানির উৎস নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”