• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

আইপিএল থেকে বাদ মুস্তাফিজ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৮
ছবির ক্যাপশন: ad728

ক্রীড়া প্রতিবেদক:
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত রাজনীতির বলি হলেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর লাগাতার বিক্ষোভ এবং বিসিসিআই-এর অনড় অবস্থানের মুখে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ পড়েছেন ‘দ্য ফিজ’। আজ শনিবার সকালে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার নির্দেশনার পর কলকাতা আনুষ্ঠানিকভাবে মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, “দেশজুড়ে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আমরা কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে একজন ক্রিকেটার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়ে কেকেআর চাইলে তাদের পছন্দমতো যেকোনো বিকল্প ক্রিকেটার নিতে পারবে। বোর্ড থেকে সেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর তথ্যমতে, বিসিসিআই-এর নির্দেশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা মুস্তাফিজকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরামর্শ ও নীতিমালার আলোকে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই বদলি ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করা হবে।

অথচ কয়েকদিন আগেও বিসিসিআই-এর সুর ছিল ভিন্ন। কূটনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ক্রিকেটে পড়বে না জানিয়ে তখন এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, বাংলাদেশ কোনো শত্রু দেশ নয়। কিন্তু ভারতে সাম্প্রতিক উগ্রবাদী আন্দোলনের মুখে সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হলো বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ড। উল্লেখ্য, এবারের নিলামে রেকর্ড ৯.২০ কোটি রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা।
মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় কট্টরপন্থী বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম সরাসরি আক্রমণ করেছেন কেকেআর মালিক শাহরুখ খানকে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “মুস্তাফিজের মতো খেলোয়াড়রা ভারতে পা রাখতে পারবেন না। শাহরুখ খানের মতো গাদ্দারদের এই বার্তা বুঝে নেওয়া উচিত।” এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের পর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক চাপ মিলিয়েই মূলত মুস্তাফিজকে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

৩০ বছর বয়সী মুস্তাফিজ এর আগে আইপিএলের ৮টি আসরে ৫টি দলের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। এবার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থেকে এবং সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকে কেকেআরে যোগ দিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঘটনা এক নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে রইল।