• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

খনিজ সম্পদের ‘মালিকানা’ বদল: ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৪৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের মজুত সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে দেশটিতে তেল উত্তোলন, বিপণন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা অনির্দিষ্টকালের জন্য ওয়াশিংটনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি, ২০২৬) মার্কিন সিনেটে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে ‘বিশৃঙ্খলামুক্ত’ রাখতে এবং আমূল সংস্কারের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কো রুবিও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাত সংস্কারের প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছে। এই সময়ে মার্কিন সরকার এবং সরকারের অনুমোদিত নির্দিষ্ট কোম্পানি ছাড়া অন্য কাউকে এই খাতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সংস্কারের দ্বিতীয় পর্যায়ে মার্কিন ও পশ্চিমা অন্যান্য কোম্পানিকে ‘ন্যায্যতার ভিত্তিতে’ ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, ভেনেজুয়েলার তেল সরাসরি সাগরপথে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে। সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে এই তেল সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার বিশাল খনিজ সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো।

ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যমতে, ভেনেজুয়েলার মাটির নিচে অন্তত ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট মজুতের এক-পঞ্চমাংশ। যদিও বর্তমানে দেশটির দৈনিক উৎপাদন মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল। এই বিপুল মজুতকে কাজে লাগিয়ে উন্নত মানের ডিজেল, জ্বালানি ও অ্যাসফল্ট তৈরির বড় পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

মাদুরো এখন নিউইয়র্কের কারাগারে গত ৩ ডিসেম্বর মার্কিন বিশেষ বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’ রাজধানী কারাকাসে ‘অপারেশন অ্যাবস্যালুট ডিজল্ভ’ চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই সামরিক অভিযানের এক মাসের মাথায় দেশটির প্রধান সম্পদ তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল যুক্তরাষ্ট্র।