বিকাশ-রকেট-নগদে ১ হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না: নির্বাচনকালীন বিশেষ নির্দেশনা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১২
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময়ে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) এক হাজার টাকার বেশি লেনদেন করা যাবে না। একই সঙ্গে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এমএফএস লেনদেনে নতুন সীমা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকতে পারে। প্রস্তাবিত নির্দেশনা অনুযায়ী:
- এমএফএস গ্রাহকরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন।
- একবার লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে মাত্র ১ হাজার টাকা।
- এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে। বর্তমানে একজন গ্রাহক দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারলেও নির্বাচনের স্বার্থে এই সীমা ব্যাপকহারে কমানো হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ (যেমন: আস্থা, সেলফিন, সিটিটাচ) ব্যবহার করে দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাঠানো যায়। নির্বাচনে অবৈধ অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে এই সেবাটি কয়েক দিনের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, "ভোটের আগে অর্থের অপব্যবহার রোধে নির্বাচন কমিশন লেনদেন সীমিত করার নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কমিশনের চাহিদার প্রেক্ষিতে আমরা প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিচ্ছি। দ্রুতই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি করা হবে।" তবে প্রার্থীদের ঘোষিত নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলে তিনি জানান।
কড়া নজরদারিতে বড় লেনদেন উত্তোলনে নজরদারি জোরদার করেছে বিএফআইইউ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক হিসাবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন হলে ব্যাংককে অবশ্যই ‘সিটিআর’ (CTR) দাখিল করতে হবে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তথ্য গোপন করলে বা ভুল তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :