বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট পাকিস্তানের, আইসিসির প্রতিক্রিয়া
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১২
স্পোর্টস ডেস্ক :
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নাটকীয় মোড় নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটে। দীর্ঘ জল্পনার পর পাকিস্তান সরকার শাহিন আফ্রিদিদের বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দিলেও বড় এক শর্ত জুড়ে দিয়েছে—গ্রুপ পর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করবে তারা। পাকিস্তানের এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এবার মুখ খুলেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।
গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশকে নিয়ে আইসিসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে না। মূলত নিরাপত্তা শঙ্কার অজুহাতে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি আইসিসি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর থেকেই এই সংকটের শুরু। বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করায় শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের বয়কট সিদ্ধান্তের পরপরই এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইসিসি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আইসিসি জানায়, তারা পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটির মতে, কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচ বয়কট করা একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের মৌলিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
আইসিসি স্পষ্ট করে বলেছে, "টুর্নামেন্টগুলো সততা, প্রতিযোগিতা এবং স্বচ্ছতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতার মূল চেতনা ও পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করবে।"
আইসিসি পাকিস্তান সরকারের নীতির প্রতি সম্মান জানালেও সতর্ক করে বলেছে যে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে কিংবা সাধারণ ভক্তদের জন্য শুভ নয়। সংস্থাটি পিসিবিকে তাদের দেশে ক্রিকেটের ওপর এর সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। আইসিসির মতে, পাকিস্তান নিজেই এই ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের অন্যতম বড় অংশীদার ও সুবিধাভোগী, তাই এমন সিদ্ধান্ত সামগ্রিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আইসিসি সংকট সমাধানে আইসিসি আশা প্রকাশ করেছে যে, পিসিবি সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে। আইসিসির বর্তমান অগ্রাধিকার হলো বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা, যেখানে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য।
এখন দেখার বিষয়, আইসিসির এই হুঁশিয়ারি এবং ক্রিকেটীয় কূটনীতির মুখে পাকিস্তান তাদের বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে কি না। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে টুর্নামেন্টটি বিশাল আর্থিক ও দর্শকপ্রিয়তার ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :