• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা ঘটনায় ১৭ মামলার আসামি মনিরুল আটক, আদালতে জবানবন্দি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের শংকরপুরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৭টি মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে রোমহর্ষক সব তথ্য। ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে এবং খোদ নিজের মেয়ের জামাইয়ের পরিকল্পনায় প্রাণ দিতে হয়েছে আলমগীরকে। ডিবি পুলিশ মামলার তদন্ত শেষে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শনিবার রাতে ঝুমঝুমপুর মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে ডিবির এসআই অলক কুমার দে-র নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মনিরুল ইসলামকে আটক করা হয়। মনিরুল শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। আটকের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার মনিরুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেনকে হত্যার জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন তার নিজের জামাতা পরশ। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন বিকেলে পরশ প্রধান শুটার মিশুকের হাতে ১ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল তুলে দেন। বাকি ৪ লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে ভাগ করে দেওয়ার কথা ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের পর সুবিধাজনক সময়ে আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পরশ।

গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে ১০-১২ জনের একটি কিলিং স্কোয়াড আলমগীর হোসেনের পিছু নেয়। আলমগীর যখন শংকরপুর বটতলা হয়ে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন ঘাতকরা তাকে অনুসরণ করছিল। সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছে পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকেই তাকে লক্ষ্য করে নিখুঁত নিশানায় গুলি করেন শুটার মিশুক। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন আলমগীর। মিশন শেষে ঘাতকরা ভিন্ন ভিন্ন পথে পালিয়ে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অলক কুমার দে জানান, এ নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন:
  • পরশ: নিহতের মেয়ে জামাই (পরিকল্পনাকারী)।
  • সাগর: পরশের সহযোগী।
  • ত্রিদিব ওরফে মিশুক: প্রধান শুটার।
  • শাহীন কাজী: সহযোগিতাকারী।
  • মনিরুল ইসলাম: পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী।
আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, পুরো হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ, যা জামাতা পরশ ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করে বাস্তবায়ন করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই মিশনের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ডিবি পুলিশ।