• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

সীতাকুন্ডে ধর্ষণের শিকার গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার শিশুটি আর বেঁচে নেই


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৭
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক
সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের গহীন অরণ্যে রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু ইরা মনি আর নেই। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত দুই দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেল ফুটফুটে এই শিশুটি।

গত রবিবার সকালে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীরে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাঁটতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির গলা এবং হাতে গভীর ক্ষত ছিল। গলার আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে সে উদ্ধার হওয়ার পর থেকে কোনো কথা বলতে পারছিল না। জঙ্গল থেকে তাকে বেরিয়ে আসতে দেখে স্থানীয় শ্রমিকরা কাপড় দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার শেষে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে ভোর সাড়ে ৫টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে শিশুটির ওপর যৌন সহিংসতার আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়া এলাকার রিকশাচালক নূর হোসেনের মেয়ে। নূর হোসেন জানান, মেয়েটি প্রতিদিন তার দাদার বাড়িতে যাতায়াত করত। ঘটনার দিন দুপুরে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরে ফেসবুকের ছবির মাধ্যমে হাসপাতালে গিয়ে নিজের সন্তানকে শনাক্ত করেন তিনি। ১৫ কিলোমিটার দূরের বাসা থেকে কীভাবে শিশুটি এত গভীরে পৌঁছাল, তা নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র রহস্য ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ঘটনার পর রবিবার রাতেই শিশুটির মা সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।"

ইরা মনির এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পুরো সীতাকুণ্ড এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।