রক্তাক্ত তেহরান: নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়াল
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক | তেহরান (আল-জাজিরা ও তাসনিম নিউজের তথ্যসূত্র)
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের পঞ্চম দিনে ইরান এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় নিহতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০৪৫ জনে, যার মধ্যে শিশু ও কিশোর রয়েছে অন্তত ৩০০ জন। আহত ৬,০০০-এর বেশি মানুষ হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন।
বুধবার তেহরানসহ ইরানের পবিত্র শহর কোম, ইসফাহান এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা মূলত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর (IRGC) আধাসামরিক শাখা ‘বাসিজ’ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের কার্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এই হামলায় অসংখ্য আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেসামরিক জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আক্রমণের মুখে হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। আইআরজিসি (IRGC) মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে তাদের ১৯তম দফার পাল্টা হামলা শুরু করেছে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রু প্রমিজ-৪’। তেহরানের দাবি, তারা এই অঞ্চলে অবস্থিত ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ এবং ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছের দুটি ভবনে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেলেও মূল স্থাপনাটি এখনো নিরাপদ রয়েছে। এদিকে, গত শনিবার নিহত হওয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার প্রস্তুতি চলছে। খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "ইরানের পরবর্তী নেতা যেই হোন না কেন, ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা করলে তাকেও নির্মূল করা হবে।" অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের নেতৃত্ব এখন চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে ইরানি দূতাবাসে হামলা চালানো হলে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, সংঘাতের জেরে গত কয়েক দিনে প্রায় এক লাখ মানুষ তেহরান ছেড়ে পালিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, "ট্রাম্প কূটনীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আলোচনার টেবিল ধ্বংস করে দিয়েছেন।"
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত ও ভয়াবহ বিস্ফোরণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
আপনার মতামত লিখুন :