• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

‘সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়’: প্রথম ভাষণেই হুঙ্কার ডেপুটি স্পিকারের


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ৬:৫৮
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "জাতীয় সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র।" গতানুগতিক ধারার বাইরে এবারের সংসদকে ‘মজলুমদের সংসদ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার ঘোষণা দেন।

রোববার (২৯ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম ভাষণ।

বক্তব্যের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন দ্বার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মীর মুগ্ধসহ সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আজকের এই সংসদ অসংখ্য পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং নির্যাতিত মানুষের ত্যাগের ফসল।"

সংসদ পরিচালনায় পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ঘোষণা করেন, "আমি ইতোমধ্যে সরকার এবং দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করব।" প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর অনুসরণে তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, "আমি সঠিক থাকলে আপনারা সাহায্য করবেন, আর ভুল করলে শুধরে দেবেন।"

এবারের সংসদের বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "এই সংসদ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এখানে এমন সব সদস্যরা এসেছেন যারা কেউ ফাঁসির মঞ্চের কন্ডেম সেল থেকে, কেউ আয়নাঘর থেকে, কেউ দীর্ঘ নির্বাসন থেকে, আর কেউ গুম-নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে ফিরেছেন। আমরা সবাই এখানে মজলুম হিসেবে সমবেত হয়েছি।"

বিখ্যাত আইনবিদ এভি ডাইসির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা ও ওয়েস্টমিনস্টার স্টাইলের গণতন্ত্র সরাসরি প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, জাতীয় সংসদ হবে জাতির দর্পণ এবং এর মূল লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।