• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

শ্রমিকদের জন্য সুসংবাদ, মালয়েশিয়ার বাজারে ফিরছে বাংলাদেশ


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২০
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক:
বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণাপত্রে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া-এ অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতোশ্রী রামানান রামাকৃষ্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম চৌধুরী।

বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, শ্রম অভিবাসনে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা হবে।

উভয়পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।

এতে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন ব্যয় কমাতে কাঠামোগত বাধা দূর করা, নির্ভরযোগ্য ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সব সোর্স কান্ট্রির জন্য একটি ডিজিটাল ও এআইভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস করা এবং নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ব্যয় বহন নিশ্চিত করা।

ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় কাজ পেতে কোনো খরচ বহন করতে হবে না। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ‘নিয়োগকর্তাই পরিশোধ করবেন’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশ এ ধরনের বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এছাড়া শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান মামলাগুলো নিয়ে উভয়পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মালয়েশিয়া তাদের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পারে এমন ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে জোর দিয়েছে।

অন্য দিকে বাংলাদেশ আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

যৌথ ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, অনুমোদনহীন কর্মীদের সমস্যা মোকাবিলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে উভয়পক্ষ দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা জোরদার করবে।