‘চিকেনস নেক’ করিডোরের রাস্তা এখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬, ১৫:১৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভূরাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত ‘শিলিগুড়ি করিডোর’-এর বিস্তীর্ণ জমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের জারি করা একটি সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি সড়ক ‘ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ (NHAI) এবং ‘ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড’ (NHIDCL)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সাতটি সড়কের মধ্যে পাঁচটিই সরাসরি শিলিগুড়ি করিডোরের ভেতর দিয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কগুলো দেখভালের দায়িত্ব ছিল রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের হাতে। বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই জমি হস্তান্তর নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে নানা টালবাহানা চললেও, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার’ অজুহাতে এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সামরিক ও ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হস্তান্তরের ফলে সংকীর্ণ এই করিডোরের রাস্তাগুলোর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত শুরু হবে। রাস্তাগুলো চওড়া ও শক্তিশালী করা হলে ওই অঞ্চলে যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সড়কপথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম ও সৈন্য চলাচল অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে।
ভৌগোলিক দিক থেকে ‘চিকেনস নেক’ ভারতের জন্য এক বিশাল দুর্বলতা ও একই সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ— এই তিন আন্তর্জাতিক সীমান্তের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি যেখানে সবচেয়ে সরু, সেখানে এর দৈর্ঘ্য মাত্র ২২ কিলোমিটার। এই সামান্য সরু পথটিই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টারস’ বা সাতটি রাজ্যকে যুক্ত করে রেখেছে। আর এই অঞ্চলের ঠিক ওপরেই সিকিম সংলগ্ন সীমান্তে রয়েছে শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশ চীন।
২০১৭ সালে ভুটান-চীন-ভারত ত্রিমুখী সীমান্তের ‘ডোকলাম’ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনার পর থেকেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে নীতিগত পরিকল্পনা চলছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাতীয় নিরাপত্তার সেই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এবার শিলিগুড়ি করিডোরের নিয়ন্ত্রণ ও রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ সরাসরি নিজেদের হাতে
ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভূরাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত ‘শিলিগুড়ি করিডোর’-এর বিস্তীর্ণ জমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :