• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

মসজিদ নির্মাণ নিয়ে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে মতবিরোধ, মালপত্র নিয়ে চলে গেলো ঠিকেদার


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজেস্ব প্রতিনিধি:
যশোরের চৌগাছা উপজেলার প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে স্থানীয় কৃষক, কাঁচামাল ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ হলে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় স্থান পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

তবে উপজেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের দাবি কর্ণপাত না করে বুধবার (২২এপ্রিল) সকালে মনজিদ নির্মাণের জন্য মাটিপরীক্ষার কাজ শুরু করলে কৃষক, কুলি, ব্যবসায়ী বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভ কারিদের দাবির মুখে মালপত্র গুটিয়ে নিয়ে পালায় ঠিকেদার প্রতিষ্ঠান সাব-সয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

জানা গেছে, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য  চৌগাছা পাইকারি কাঁচাবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই স্থানে প্রায় ১৭২টি কাঁচামালের আড়ৎ রয়েছে, যেখানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫শ' পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এখানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। একাধিকবার ব্যবসায়ীরা উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। 


ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, প্রত্যেক ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন। হাটের মাঝখানে মসজিদ নির্মাণ হলে পুরো বাজার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অনেকেই পথে বসার ঝুঁকিতে পড়বেন। তাই তারা মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

চৌগাছা কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বলেন, এই জায়গায় ১৭২টা আড়ৎ আছে। বাজার ঘিরে ২৫শ' থেকে ৩ হাজার পরিবারে রুজিরোজগার ব্যবস্থা আল্লাহ করে দিয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, মডেল মসজিদ হোক চৌগাছায় এটা আমরা চাই, কিন্তু আমরা স্থানটা পরিবর্তন করে আমাদের পাশে আরও জায়গা আছে, অনেক পরিত্যক্ত জায়গা পড়ে আছে, সেই জায়গায় মসজিদ হলে আমারা ২৫০০ থেকে ৩০০০ পরিবার  একটু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারবে।  সরকারের কাছে আবেদন, স্থানটা পরিবর্তন করে তারা নদীর ওপারে, বাজার থেকে ১০০ গজ দূরে একটা জায়গা আছে। এই জায়গায় মডেল মসজিদ হলে আমাদের জন্য সবথেকে সুবিধা।


চৌগাছা কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, আমার মসজিদ নির্মাণের বিরোধী নন। বরং এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি স্থান পরিবর্তনের জন্য  এবং মসজিদ নিমাণে জন্য  একটি নির্দিষ্ট জায়গার প্রস্তাব দিয়েছেন। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন , সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে বা কারো পেটে লাথি মেরে মসজিদ নির্মাণ ইসলাম সমর্থন করে কি না। 

এ বিষয়ে ঠিকেদার প্রতিষ্ঠান 'সাব-সয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড'-এর ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ হোসেন বলেন, কাচা বাজারে মসজিদটি নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা জড়িয়ে আছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকা নষ্ট করে মসজিদ নির্মাণ করা বা সয়েল টেস্ট করা সম্ভব নয়। বিক্ষোভের বিষয় ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে  কথা জানানো হয়েছে। তাদের দাবির মুখে মালপত্র নিয়ে আমরা চলে যাচ্ছি।

চৌগাছা উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা ফারজানা ইয়সমিন বলেন, আমি আজকে (বুধবার) বিষয়ে ও মসজিদ নিমার্ণের বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।'