• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

আজ ১ আগস্ট: জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে নিষিদ্ধ হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

বিশেষ প্রতিবেদক ঃ
আজ ১ আগস্ট। ২০২৪ সালের এই দিনটিতে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানকে ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরানো ও আন্দোলন দমানোর এক ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

তবে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন তাতে দমে যায়নি; বরং নিষেধাজ্ঞার মাত্র চার দিনের মাথায়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগে বাধ্য হন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একপর্যায়ে দেশব্যাপী রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে সারা দেশে চরম দমন-পীড়ন, কারফিউ জারি এবং শতাধিক আন্দোলনকারীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে এবং নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তৎকালীন সরকার ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবির উভয়কেই রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার আন্দোলনকে 'রাজনৈতিক ট্যাগ' দিয়ে এবং সহিংসতা ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার দায় বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে নিজেদের রক্ষা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের এমন ফাঁদ এড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারকে সামনে রেখা এবং পরবর্তীতে রাজপথে সর্বস্তরের মানুষের গণবিস্ফোরণকে কোনো প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রোখা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীকালে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে আইনগত পর্যালোচনার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কেবল এক স্বৈরাচারের পতনের স্মারক নয়; বরং সরকারের প্রশাসনিক আদেশ ও দমন-পীড়নকে পেছনে ফেলে কীভাবে আমজনতার ঐক্য একটি জাতিকে নতুন রূপ দিতে পারে—১ আগস্টের এই ঘটনা তারই এক অন্যতম ঐতিহাসিক সাক্ষী হয়ে রয়েছে।