• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন স্বামী-স্ত্রী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী মারা যান। আর স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন—চৌগাছা উপজেলার মডেলপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইলের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৬) এবং তাঁর স্ত্রী সাবিরা খাতুন (৩৩)।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় আব্দুর রশিদ তাঁর স্ত্রী সাবিরা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে যশোর  চৌগাছা যশোর শহরের দিকে আসছিলেন ডাক্তার দেখাতে। সেই ডাক্তার দেখানো আর হলো না। হাসপাতালে যেতে হল লাশ হয়ে। তাঁরা যশোর সদর উপজেলার  যশোর ক্যান্টনমেন্টের মেইন গেটের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলটি ছিটকে পড়ে এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনই গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সাবিরা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আব্দুর রশিদের অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন চিকিৎসকরা।

পরে স্বজনরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে আব্দুর রশিদের মৃত্যু হয়।

একই দুর্ঘটনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। একসঙ্গে জীবনের সঙ্গী দুজনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

স্বজনদের কান্নায় বারবার উচ্চারিত হচ্ছে—‘কে কাকে সান্ত্বনা দেবেন?’ যে স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে ফেরার পথে বের হয়েছিলেন, সেই পথই শেষ পর্যন্ত তাঁদের দুজনকে চিরবিদায় দিল।

একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।