• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া চৌগাছার ঋতুর জিপিএ-৫, অদম্য মেধার পরও উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কা


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:৫১
ছবির ক্যাপশন: ad728

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের চৌগাছায় ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার মৃত্যুর শোক বুকে চেপে পরীক্ষা দেওয়া সেই অদম্য মেধাবী ঋতু খাতুন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। সে উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে এখন তার উচ্চশিক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির দুই কন্যাসন্তানের মধ্যে ছোট।

পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে পরীক্ষা শুরু করেছিল ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন গত মে মাসে তার বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর 'বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা' পরীক্ষা থাকা অবস্থায় ভোরে হাসপাতালেই মারা যান তার বাবা কবির হোসেন।

সেদিন পরীক্ষা চলাকালীন ঋতু যেন ভেঙে না পড়ে, তাই পরিবার তাকে বাবার মৃত্যুর খবর জানতে দেয়নি। পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে ঋতু। পরে শেষবারের মতো বাবাকে বিদায় জানিয়ে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেয় এই অদম্য কিশোরী। সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সব প্রতিকূলতা জয় করে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

ফলাফল প্রকাশের পর আবেগপ্লুত ঋতু জানায়, "বাবা বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। বাবা হারানোর এ কষ্ট সহ্যের নয়, তার ওপর এখন উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।"

হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন বলেন, "ঋতু চরম দারিদ্র্য ও অসুস্থ বাবার কষ্ট দেখে বড় হয়েছে, কিন্তু তা তার পড়াশোনায় বাধা হতেেনি। সে খুবই মেধাবী। কোনো শিক্ষাবৃত্তি বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে তার উচ্চশিক্ষার পথ সহজ হবে।"

বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "পিতৃশোক সহ্য করে ঋতুর এই অর্জন সত্য়ই অনুপ্রেরণাদায়ক। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে এবং তার উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।"