আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি লালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। বিবিসি রেডিও ৪-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন মনে করে তাদের প্রভাব ও ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আইনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গুতেরেসের মতে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে এই বিশ্বাস প্রবল যে বহুপাক্ষিক সমাধানগুলো এখন অপ্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপ এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মতো সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ইউরোপসহ বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। এর ফলে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন 'সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমতা'র নীতিও বর্তমানে হুমকির মুখে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। গত সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি একাই সাতটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, যেখানে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। ট্রাম্পের এমন কড়া সমালোচনার মুখে গুতেরেস স্বীকার করেন যে, বড় শক্তিগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা জাতিসংঘের নেই; বরং সেই ক্ষমতা গুটিকয়েক রাষ্ট্রের হাতেই বন্দি।
জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামোকে ১৯৪৫ সালের সমাধান-পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, তা দিয়ে ২০২৬ সালের জটিল সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান গঠনকে বৈষম্যমূলক ও অকার্যকর বলে অভিহিত করেন। ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
গাজাকে জাতিসংঘের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করে মহাসচিব বলেন, যুদ্ধের সময় সেখানে মানবিক সহায়তা বিতরণে ইসরায়েল ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব সংঘাত, দায়মুক্তি ও অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারের শেষে গুতেরেস বিশ্বনেতাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মানুষের উচিত শক্তিশালীদের চ্যালেঞ্জ করা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যদি আমরা শক্তিশালীদের মুখোমুখি হতে অনিচ্ছুক থাকি, তবে কখনোই আমরা একটি ভালো বিশ্ব গড়তে পারব না।" চলতি বছরের শেষে গুতেরেসের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার কথা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :