• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

বহিষ্কারে কাঁদলেন শহীদ ইকবাল, জয়ী হয়ে দলে ফেরার প্রত্যয়


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৭
ছবির ক্যাপশন: ad728

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে মনিরামপুর থানা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেনকে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে বুধবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বুধবার রাতে যখন শহীদ ইকবালের বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন তিনি নিজের অনুসারীদের সাথে নিয়ে মনিরামপুর থানা বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। বহিষ্কারের খবর শুনে তখন তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এসময় শহীদ ইকবাল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি বিএনপি ছেড়ে যাব না। পদপদবী না থাকলেও আমি বিএনপিতে থাকব। আমি বিএনপির জন্য এই আসনটি রক্ষা করে দিতে চাই। এরপর নির্বাচনে জয়ী হলে আমি আমার আপনাদের নিয়ে বিএনপিতে ফিরে আসব।

শহীদ ইকবাল বলেন, টেবিলের উপর থেকে যখন ধানের শীষের প্রতীক সরিয়ে রেখেছি তখন আমার বুক ফেটে কান্না এসেছে। অনেক গভীর রাতেও আমি কান্না করেছি। দলের জন্য পরিশ্রম কম করিনি। রাত দিন খেটেছি। সেই দল আমাকে মূল্যায়ন করেনি।
এসময় উপস্থিত সমর্থকরা পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তাকে কান্না থামাতে অনুরোধ করেন।


মনিরামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, মনিরামপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বারবার জোটের শরিক প্রার্থীর কাছে হেরে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামীলীগ শাসনামলে আমাদের ১২জনকে হত্যা করা হয়েছে। শহীদ ইকবালের বাড়িতে ১০ বার হামলা হয়েছে। 

আমরা মামলায় জর্জরিত হয়েছি। এবার আমরা জোটের হাত থেকে ধানের শীষ উদ্ধারের সংগ্রামে নেমেছি। শহীদ ইকবাল নির্বাচিত হলে আমরা আবার তার হারানো পদ ফিরিয়ে আনতে পারব।
শহীদ ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন মনিরামপুর থানা বিএনপির টানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসন থেকে দল তাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়। এরপর তা পরিবর্তন করে বিএনপির শরিক দল জমিয়ত ওলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রশীদ আহমদকে ধানের শীষের চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন শহীদ ইকবাল। বুধবার তিনি কলস প্রতীক বরাদ্দ পান।

শহীদ ইকবাল হোসেন ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে দুই বার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত খান টিপু সুলতানের কাছে হেরে যান। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে পরে তা পরিবর্তন করে জোটের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি ওয়াক্কাসকে দেয়। 

কয়েক বছর আগে মুফতি ওয়াক্কাস প্রয়াত হলে তাঁর বড় ছেলে রশীদ আহমদ জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদ পান। এবারের নির্বাচনে দল শহীদ ইকবালকে মনোনয়ন দিয়ে তা পরির্বতন করে রশিদ আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছে। বুধবার ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে তিনি প্রচারণায় নেমেছেন।